
ইসলামপুর, ৯ মার্চ : দুই গোষ্ঠীর বিবাদকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্র উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর। রাজনৈতিক বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। চলল বোমা গুলি। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামপুর থানার দক্ষিণ মাটিকুন্ডা এলাকায়। মৃত সিভিক ভলান্টিয়ার স্থানীয় তৃণমূল নেতার ভাই। এখনও থমথমে গোটা এলাকা। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ইসলামপুর থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীর।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকার দখল কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও ব্লক সভাপতির মধ্যে বিবাদ লেগেই রয়েছে। বুধবার রাতের দিকে তা ভয়ংকর রূপ নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় গুলি ও বোমার লড়াই। এই বিবাদের জেরে স্থানীয় তৃণমূল নেতার ভাই তথা সিভিক ভলান্টিয়ার সাকিব আখতারের বাড়িতে হানা দেন বেশ কয়েকজন। সেই সময় খাবার খাচ্ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার। বাড়ি ঘিরে চলে গুলি ও বোমার লড়াই। তাতেই জখম হয়ে প্রাণ যায় সাকিব আখতার (৩০) নামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মাটিকুন্ডা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অন্য গ্রাম থেকে লোকজন নিয়ে এসে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধানের বাড়ি সহ প্রধানের সমর্থনে থাকা ওই এলাকার বেশকিছু লোকজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর প্রধান সহ ওই সব পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ইসলামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে।
এই ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল ও ব্লক সভাপতি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব ইসলামপুরের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুল করিম চৌধুরীর। হাসপাতালে আসেন তিনি । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘দুইদিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নিজের পদ এবং দল থেকে পদত্যাগ করব।‘ এছাড়া বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ইসলামপুর থানা ঘেরাও করবেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে কানাইয়ালাল আগরওয়াল কিংবা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নতুন করে যাতে আর অশান্তি না হয়, তাই এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
