
জলপাইগুড়ি, ২২ অক্টোবর : হাতির এলাকায় ক্রমেই মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলায় সমস্যায় পড়ছে প্রাণীকূলের একটা বড় অংশ। গ্রামের মানুষের একাংশের মধ্যে বাড়ছে পশুদের আক্রমণের ঘটনা। এবার প্রশাসন এই অবস্থা সামাল দিতে নড়েচড়ে বসল। শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে অনেকটাই খালি হল তিস্তার চর। এই চড় না ছাড়লেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মাইকে প্রচার করা হচ্ছিল বন দফতরের তরফে। শনিবার দুপুর থেকে এই নিয়ে প্রচার শুরু হয় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের চর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বন দফতর। বিকেলের পর চরে মানুষ জনকে দেখা গেলেই আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে যদি কাউকে বুনো হাতিদের উত্যক্ত করতে দেখা যায়, তাঁকেও গ্রেফতার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে বন দফতর। উল্লেখ্য, হাতির চলাচলের পথ দখল করে বাড়িঘর তৈরি করে চাষ আবাদ করার অভিযোগ মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। এই ঘটনার জেরে বুনো হাতি চলাচলের পথে বিঘ্ন ঘটছে বলেও অভিযোগ। আর সেই কারণেই সাম্প্রতিককালে মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাতও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার বিকেলের মধ্যে তিস্তা নদীর চর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য মাইকে প্রচার শুরু করে বন দফতর। বন দফতর সূত্রে খবর, প্রানহানি ঠেকাতে এই প্রচার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাকা ধান এবং সব্জির লোভে সম্প্রতি জঙ্গল থেকে তিস্তার চর এলাকায় চলে আসছে হাতির দল। আর এই হাতির দলকে তাড়িয়ে দিতে ট্র্যাক্টর দিয়ে তাড়া করছে তিস্তা চড়ের একাংশ কৃষক। এরই মধ্যে শনিবার ভোরের দিকে হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক গ্রামবাসীরও। আর এরপরই কড়া পদক্ষেপের পথে বন দফতর। জলপাইগুড়ির তিস্তার চর হল হাতি চলাচলের অন্যতম করিডর। বর্তমানে এই এলাকায় চরের উপর প্রচুর পাকা ধান ও শাক সব্জি রয়েছে। আর সেই সব খাবারের লোভে সম্প্রতি ঘন ঘন রাত বাড়লেই বৈকন্ঠপুর জঙ্গল ছেড়ে তিস্তার চরে ঢুকে পড়ে বুনো হাতির দল। গতকালই হাতির হানায় নীলকান্ত ওঁরাও নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
