
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা জুড়ে বিশেষ সাফাই অভিযান কর্মসূচি ‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’-র সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহরের পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। আগামী ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যে মেগা কর্মসূচির প্রস্তুতিও চলছে। রেড রোডে মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। তার আগে শহরজুড়ে সাফাই অভিযানের সূচনা করতেই কলকাতা পুরসভায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানেই তাঁর সঙ্গে একসারিতে দেখা গেল ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে থাকা সন্দীপন সাহা, মালা রায়কে। এমনকী ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানও।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”কলকাতা পুরসভায় শেষবার ২০১৭ সালে এসেছিলাম। সেই সময় মন্ত্রী হিসাবে এসেছিলাম। কিন্তু এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আসতে পেরে আমি ধন্য।” অন্যদিকে এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলররাও। ছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের লোক কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”এই পক্ষ, ওই পক্ষ নয়, এখন উন্নয়নের পক্ষ।” তাঁর কথায়, আমাদের সঙ্গে কারোর বিরোধ নেই। সবাই মিলে উন্নয়নের কাজ হবে। যারা আসবেন সবাই মিলে কাজ হবে। কিন্তু যারা আসবেন না তাঁরা ছিন্ন হয়ে যাবেন বলেও মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর।
জানা গিয়েছে, ‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’ শীর্ষক অভিযান শুরু হচ্ছে বাংলায়। পাঁচদিন ধরে চলবে অভিযান। যার মধ্যে আগামী ১৭ জুন গঙ্গা পরিষ্কার অভিযান করা হবে। কলকাতার প্রত্যেকটি ঘাটকে পরিস্কার করা হবে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাত লাগাবেন সাফাই অভিযানে। এছাড়াও বিভিন্ন মন্দির, নাখোদা মসজিস-বাজার এলাকাতেও এই স্বচ্ছতা অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়েছে। কলকাতা পুরসভার পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, আগামী ২১ তারিখ যোগ দিবস রয়েছেন। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আসার আগে নতুন এক কলকাতা উপহার দেওয়া হবে তাঁকে।
আরও জানালেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই গঠিত হবে নতুন পুরবোর্ড। অর্থাৎ ছ’মাসের মধ্যেই হবে পুরভোট। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভায় কেন বসানো হল প্রশাসক, তার ব্যাখ্যাও দিলেন তিনি। বললেন, “ওরা সবাই মেয়র হতে চায়! নাগরিক পরিষেবা এক মিনিটের জন্যও বন্ধ রাখা যায় না। তাই বাধ্য হয়েছি প্রশাসক বসাতে।” কলকাতা পুরসভাকে উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকা দিতে পারেন বলেও জানালেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে পূর্বতন বোর্ড কাজ করেনি বলেও অভিযোগ করলেন তিনি।
সোমবার কলকাতা পুরসভার অনুষ্ঠান থেকে তা নিয়েই মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমি আগের বোর্ডকে বলেছিলাম, ওরা ধরে রাখতে পারেনি। কলকাতা পুরসভা তো বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। নাগরিক পরিষেবা তো দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েছি প্রশাসক বসাতে।” এরপরই মেয়র বাছাইয়ের সই নিয়ে তৃণমূলের অর্ন্তদ্বন্দ্বকেও নিশানা করেন তিনি। বলেন, “ওরা যদি সবাই মেয়র হতে চান, তাতে তো আমার কিছু করার নেই। কলকাতা পুরসভার একটা ঐতিহ্য আছে। একটা বিস্তীর্ণ এলাকা এর অধীনে। এখানে এখনও সকালে পাইপ দিয়ে রাস্তা পরিস্কার হয়। নেতাজি এখানকার মেয়র ছিলেন। আমি এর ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হতে দিতে পারি না।”
কলকাতা পুরসভার ভোট প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করা দরকার। পাশাপাশি যেখানে প্রশাসক রয়েছে সব জায়গায়ই দ্রুত ভোট হোক চাইছি।” এদিন ফের বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “মোদিজি যেভাবে সবাইকে নিয়ে কাজ করেন, আমি সেভাবেই কাজ করব। আজকের অনুষ্ঠানেও বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছেন। প্রায় সকলেই এসেছেন। এটাই হওয়া উচিৎ। রাজনীতি শুধু ভোটের সময়।” তবে পূর্বতন বোর্ড কোনও কাজ করেনি বলে অভিযোগও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। প্রসঙ্গত, শেষ কলকাতা পুরসভায় ভোট হয়েছিল ২০২১ সালে। পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বরে।
