West Bengal

1 hour ago

Bengal Education Department: ‘সংঘ’ প্রভাবিত শিক্ষা নীতি? বঙ্গে পাঠ্যক্রম বদলের সম্ভাবনায় জোর চর্চা

Chief Minister Suvendu Adhikari
Chief Minister Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  দীর্ঘ কয়েকদিনের দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে রাজ্যের নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হল। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিজের হাতে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও নতুন মুখের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অন্যান্য দপ্তরও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে নজর কাড়ছে শিক্ষাদপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সময়ে এই বিভাগে নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল, ফলে এই দপ্তর ঘিরে চাপ ও চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দীপক বর্মণের মধ্যে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং দীপক বর্মণকে দেওয়া হয়েছে স্কুল শিক্ষাদপ্তর। উল্লেখযোগ্যভাবে, দু’জনেই আরএসএস ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, ফলে শিক্ষাদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন আগেই স্কুল-পাঠ্য বইয়ে ভারতের গৌরবময় ইতিহাস বাদ দিয়ে বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দেশের আসল ঐতিহ্য তুলে ধরতে পাঠক্রমে সঠিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন বলেও  সওয়াল করেন তিনি। শমীক জানান, তরুণ প্রজন্মের নিজের দেশ সম্পর্কে জানা উচিত। জাতীয়বাদের পাঠ দিতে গিয়ে ব্যকরণবিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদ পাণিনি, কবি কালীদাস সহ বৈদিক যুগের একাধিক মহারথীর ইতিহাস মনে করিয়ে দেন তিনি। রাজ্যের বাঙালিদের তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা প্রথমে ভারতীয়, তারপর বাঙালি। 

শুধু শমীক ভট্টাচার্যই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা বিভিন্ন  নেতাদের বক্তব্যেও একাধিক সময়ে দেশের বিকৃত ইতিহাস বদলের কথা উঠে এসেছে। উঠে এসেছে জাতিয়তাবাদের কথা। উঠে এসেছে সনাতনী ভারতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা। উঠে এসেছে  বৈদিক বিজ্ঞান-সংস্কৃতির কথা। এমনকী বারবার স্বাধীনতা সংগ্রামের কথাও উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন নেতাদের বক্তব্যে। এই অবস্থায় বাংলার শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম, শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান-সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে আরএসএস নেতৃত্ব। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এবার ‘বিকৃত ইতিহাস’ মুছে জাতীয়তাবাদের পাঠ বাংলায়? 

এদিকে বাম জমানায় শিক্ষা দপ্তরকে ভাগ করা হয়েছিল। এর পিছনে শরিকদের চাপ ছিল! এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শুরুতেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু পরবর্তীসময়ে শিক্ষাদপ্তরকে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পরে ব্রাত্য বসুকে আলাদা আলাদাভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় শিক্ষাদপ্তরের। কিন্তু একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। আইনি জটিলতায় আটকে যায় নিয়োগ। নিয়োগের দাবিতে দফায় দফায় উত্তাল হয়েছে বাংলার রাজপথ। এই পরিস্থিতিতে আরএসএসের দীর্ঘদিনের দুই সৈনিক জগন্নাথ এবং দীপকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।  

You might also like!