
কলকাতা, ১ জুন : মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসার পর থেকেই রাজ্যের জেলাগুলিকে প্রশাসনিক সুবিধার লক্ষ্যে আরও ছোট করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার প্রস্তাবিত নয়া সাত জেলার রূপায়ণে আরও গতি আনতে নির্দেশ দিলেন তিনি।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই দেশে সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগেই চলতি বছরেই বাংলা পেতে চলেছে ৭টি নয়া জেলা। বৃহস্পতিবার নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সেখানকার সভাঘরের এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে জেলার সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর প্রশাসনকে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আধিকারিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সময় এই বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সূত্রের খবর, জেলার সংখ্যা বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলৈ মনে করেন অেকে। মানুষ হাতের কাছেই পাবেন বিভিন্ন উন্নত পরিষেবা। কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক বরাদ্দও বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী এই কারণগুলি তুলে ধরেই জেলার সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন বলেই নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
বাম আমলে মেদিনীপুর ভেঙে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের জন্ম হয়েছিল। আবার পশ্চিম দিনাজপুর ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলারও জন্ম হয় বাম আমলেই। সেই হিসাবে দেখতে গেলে বাম জমানায় নয়া জেলার জন্ম সংখ্যা ৪।
মমতার আমলে কিন্তু রাজ্যে নতুন জেলা তৈরির সংখ্যা বেশ বাড়তে চলেছে। আগেই জলপাইগুড়ি ভেঙে আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং থেকে আলাদা করে করে কালিম্পংকে পৃথক জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান ভেঙে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৈরি হয়েছে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রামকে আলাদা করে পৃথক জেলা গড়া হয়েছে। অর্থাৎ ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে রাজ্যে নয়া ৫টি জেলা তৈরি হয়েছে। এবার সেই সংখ্যা একলাফে ১২ হতে চলেছে। ২০২২ সালের ২ আগস্ট এই নতুন ৭টি জেলা তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
প্রস্তাবিত জেলাগুলি হল—উত্তর ২৪ পরগনা থেকে বসিরহাট মহকুমাকে আলাদা করে পৃথক বসিরহাট জেলা এবং বনগাঁ মহকুমাকে আলাদা করে পৃথক ইচ্ছামতী জেলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাকে ভেঙে পৃথক সুন্দরবন জেলা, বাঁকুড়া ভেঙে পৃথক বিষ্ণুপুর জেলা। এছাড়াও মুর্শিদাবাদ জেলা ভেঙে ৩টি পৃথক জেলা গড়া হচ্ছে। এগুলি হল জঙ্গিপুর, বহরমপুর ও কান্দি।
আরও কিছু নতুন জেলা সৃষ্টির প্রস্তাব আগামী দিনে আসে কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত ঠিক হয়েছে বসিরহাট, ইচ্ছামতী, কান্দি ও জঙ্গিপুর জেলায় ১টি করেই মহকুমা থাকবে। ডোমকল, বহরমপুর ও লালবাগ মহকুমা থাকবে বহরমপুর জেলার মধ্যে। সোনামুখীকে পৃথক মহকুমার মর্যাদা দেওয়া হতে পারে ও তা বিষ্ণুপুর জেলার মধ্যে থাকবে। এর বাইরে আমতা ও গড়বেতাকে পূর্ণাঙ্গ মহকুমার স্বীকৃতি দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।
