
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রামনবমী অশান্তি মামলার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল এনআইএ। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর তৃণমূলের এক কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গ্রেপ্তার হয়েছেন আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী তথা রিষড়ার কাউন্সিলর সাকির আলি। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে এনআইএ-র একটি দল সাকির আলির রিষড়ার বাড়িতে পৌঁছয়। তদন্তকারীদের নজরে থাকা ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে নিরাপত্তারক্ষীরা। এরপর বাড়ির ভিতরে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করেন এনআইএ আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রামনবমীর সময় সংঘটিত অশান্তির ঘটনায় সাকির আলির ভূমিকা খতিয়ে দেখছিল এনআইএ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এদিন তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
রিষড়া পুরসভার ৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলি। ২০২৩ সালে রিষড়াতেই রামনবমীর সময়ে অশান্তি, বোমাবাজির ঘটনায় সাম্প্রদায়িক হিংসায় উসকানির অভিযোগে তাঁর নাম জড়ায়। সেবার বড় অশান্তি ঘটেছিল। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কর্মসূচির সেরে ফেরার পর রীতিমতো হিংসার আগুন জ্বলে সেখানে। বেশ কয়েকদিন কারফিউ জারি ছিল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে। কিন্তু তৎকালীন শাসক শিবিরের জনপ্রতিনিধি এবং তৃণমূল সাংসদের স্বামী হওয়ার সুবাদে সাকির আলির নাম জড়ালেও কোনও বিচার হয়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আর অপরূপা পোদ্দারকে আরামবাগ থেকে প্রার্থী করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। যদিও সাকির আলির কাউন্সিলর পদটি ছিল।
এবার ছাব্বিশের ভোটে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে একের পর এক পুরসভাও হাতছাড়া হতে থাকে। কিন্তু রিষড়ার পুরবোর্ডের ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয় তৃণমূল। ফলে সাকির আলিও পদাধিকার বলে নিজের দাপট অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পাশ করিয়েছে। কড়া বার্তা দিয়েছেন, কোনওরকম অশান্তিতে গুন্ডামি বরদাস্ত হবে না, গুন্ডাগিরি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ওই বিলটিকে আইন আকারে আনা হচ্ছে। এরপরই পুরনো মামলায় তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ।
