
রামপুরহাট: একটু বালি খুঁড়লে সোনার কয়েন মিলছে বাঁশ লৈ নদীতে। আর তাই মানুষের ভিড় প্রতিদিন বাড়ছে সোনার খোঁজে। মাত্র দুদিন আগে বালি তুলতে গিয়ে এক ব্যক্তির হাতে সোনার চকচকে বেশ কয়েকটি কয়েন উঠে আসে। তারপর দাবানলের মতো সেই খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুরারইয়ের বাঁশ লৈ নদীতে কুড়ি আঙুল মতো বালি তুললেই অনেকের হাতে উঠে আসে বহু যুগ আগের পুরাতন স্বর্ণ মুদ্রা। আর তাতেই মুরারই এক ব্লকের পারকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা ভিড় জমিয়েছেন। এনিয়ে মানুষের চর্চা বেড়েছে বহুগুণ। সকলের আশা যদি এক দুইটি স্বর্ণ মুদ্রার সন্ধানে লক্ষ্মী লাভ হয়, মন্দ কি!
কিন্তু খবর চাউড় হতেই, পুলিশ প্রশাসন সেই জায়গা ঘিরে দিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, এলাকাটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে।
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই একদিন আগে পারকান্দির এক ব্যক্তি বাঁশ লৈ নদীতে বালির মধ্যে সোনার টিকলির আকৃতি একটি ছোট মুদ্রা পান। সেই খবর চাউড় হতেই এলাকার মানুষ ভিড় জমান নদীর বুকে। এই সময় নদীতে জল থাকে না। এই নদীতে সারা বছর জল থাকে না। ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে বা গোড্ডার সুন্দর ড্যাম থেকে জল ছাড়লে বাঁশ লৈ নদীতে প্লাবন আসে। জন শ্রুতি কোনো একটা সময় গঙ্গার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বাঁশ লৈ নদী। কালক্রমে গঙ্গা আরও উত্তরে সরে যায়। তখন এই নদী পথেই বাণিজ্য চলতো। সেই সময় খরস্রোতা নদীতে নৌকাডুবির ফলে বহুদিনের পুরাতন স্বর্ণ মুদ্রা বালির তলে চাপা পড়ে থাকতে পারে। নদী বক্ষ থেকে বালি তোলার ফলে সেই মুদ্রা এখন মানুষের নজের। পারকান্দি গ্রামের আশুতোষ মাল ও বাসুদেব মাল জানান, তারা প্রত্যেকে দুই একটি করে স্বর্ণ মুদ্রা পেয়েছেন। অনেকের মতো তারাও এই খবর শুনে বাঁশ লৈ নদীতে হাজির হন। বালির কুড়ি আঙুল নিচে এই মুদ্রা পাওয়া যাচ্ছে। তবে মুদ্রায় কোনো সন তারিখ বা কোনো রাজ রাজরার নাম নেই। তার গায়ে মুকুটের মতো একটি ছাপ আছে। এটা মোহর হতে পারে বলে অনেকের অনুমান ।
তবে প্রশাসন সতর্ক কারণ গুজব ছড়িয়ে নকল মুদ্রা বিক্রির কোনো ফিকির করার জন্য কোনো অসাধু চক্র কাজ করছে কিনা বা মুদ্রা গুলো আসল কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
