
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ 'মনোনয়ন জমা দেওয়া ঠেকাতে পারেনি। ভয় দেখিয়ে সেভাবে মনোনয়ন তুলে নেওয়াতেও ব্যার্থ হয়েছে তৃণমূল। এবার নকল ব্যালট ছাপানো হচ্ছে, জনগনের ভোটদানের ব্যালট বদলে ফেলার পরিকল্পনা চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। গণনার আগে বদলে ফেলবে ব্যালট বাক্স।" বুধবার বিষ্ণুপুর যাওয়ার পথে দুর্গাপুরে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর এই বক্তব্যে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে রাজ্নৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন পরই রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। ইতিমধ্যে মনোনয়ন পর্ব মিটেছে। শুরু হয়েছে প্রচার পর্ব। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় বুথে জোরকদমে চলছে শাসক বিরোধী সব দলের প্রচার। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্র সহ নানান দিকে আষ্টেপিষ্টে দুর্নীতিতে জড়িয়ে তৃণমূল। তার ওপর কয়লা, গরু পাচারে বিদ্ধ শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নেতা। আর ওই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। পাল্লা দিয়ে দুর্নীতিকে ইস্যু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বামশিবির। তার ওপর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার তৃণমূল। দলীয় কর্মসূচীতে বারংবার সেটা প্রকাশ্যে এসেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ক্ষমতা ধরে রাখতে আসরে নেমেছে তৃণমূল সাংসদ তথা তৃণমূলে সেকেন্ড ইন্ কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত প্রায় দু মাস ধরে জেলায় জেলায় নব জোয়ার কর্মসূচী চলেছে। মনোনয়ন পর্ব মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক পঞ্চায়েত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, সন্ত্রাস করে, ভয় দেখিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি অনেক আসনে। এমনকি মনোনয়ন তোলা করিয়েছে ভয় দেখিয়ে। তবুও রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পঞ্চায়েতে নির্বাচন হচ্ছে। এবার জনগনের ভোট দেওয়া ব্যালট বদলে দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
বুধবার দুর্গাপুর থেকে বিষ্ণুপুর যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান," পুরুলিয়ায় কিছু পুলিশ আধিকারিক নকল ব্যালট ছাপানোর চেষ্টা করেছিল। বাঁকুড়াতেও একইরকমভাবে জেলার কিছু পদস্থ পুলিশ অফিসার বিডিও দের কাছে জোর করে চাবি নিয়ে নকল ব্যালট ছাপাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন," জেলা পরিষদ পিছু ১৫ হাজার ব্যালট, পঞ্চায়েত সমিতি পিছু ২ হাজার ও পঞ্চয়েতে গ্রাম সংসদ পিছু ২০০ নকল ব্যালট ছাপানো হচ্ছে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন," সত্যিই ভোট হবে তো? ভোটের নামে প্রহসন হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও বহু আসনে বিজেপির মনোনয়ন ঠেকাতে পারেনি। ভয় দেখিয়েও মনোনয়ন তোলা করাতে ব্যার্থ হয়েছে তৃণমূল।
আর তাই আইএসএস আইপিএসদের দিয়ে গননার আগে ব্যালট বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। মানুষ যে ব্যালটে ভোটদান করবে সেটা গণনা হবে না। আশঙ্কা করছি সেই ব্যালট বাক্স বদলে দেবে তৃণমূল সরকার।" তিনি দাবী করে বলেন," রাজ্য নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের মদতে চলছে। আমাদের আশঙ্কা গননায় কারচুপি করবে তৃণমূল। তাই লোকসভার মতই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন রেখে ভোটদান, ভোট গননা করা হোক। স্ট্রং রুমে কেন্দ্রীয়বাহিনী পাহারায় রাখা হোক। গননার সময়, গননা ঘোষনা হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিস্ট কেন্দ্রে লাইভ টেলিকাস্ট করা হোক।" তিনি আরও দাবী করে বলেন," অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে, তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় নিশ্চিত। তৃণমূলের হাতে লণ্ঠন ধরে যাবে।"
