
বীরভূম, ১৭ আগস্ট :যাদবপুর কাণ্ডের বিতর্কের মধ্যেই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাবলীর সঙ্গে বিশ্বভারতীর নজির টানলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বলে বিশ্বভারতীকে কলুষিত করার চেষ্টা হচ্ছে।“
বিদ্যুৎবাবু বলেন, পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া যাদবপুর-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ ঢুকতে পারে না। এখানে কিভাবে ঢুকছে? রেজিস্ট্রারের অনুমতি ছাড়া বিশ্বভারতী চত্বরে পুলিশ একাধিকবার ঢুকেছে। নির্দিষ্ট কিছু উদাহরণ দাখিল করে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগে কান দেবে না অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই এফআইআর রুজু করবে।
সব মিলিয়ে প্রতিবাদ জানাতে তোপ দেগেছেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ। সঙ্গীত ভবনের মূল মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সহ কর্মীদের নিয়ে অনশন ও ধরনায় বসেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অধ্যাপিকা মহুয়া মুখার্জি জানিয়েছেন, যাদবপুর কাণ্ডের পর সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। যেখানে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন হয়েছেন এক ছাত্রী এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। খবরটি একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বভারতী পরিবার কলুষিত হয়েছে। তারই প্রতিবাদে ছিল উপাচার্যের ওই অনশন এবং ধরনা কর্মসূচি।
বিদ্যুৎবাবু বলেন, “যাদবপুর রাজ্য সরকারের অধীনে। আমার ধারণা, অনেক দিন ধরেই এই চেষ্টা চলছে। নেতিবাচক বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখুন, যেদিন যাদবপুরে নিষ্পাপ শিশুটি মারা গেল, সেদিন ফের আমাদের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ উঠল। বলা হচ্ছে, দুবছর ধরে নাকি ওই পড়ুয়া অত্যাচারিতা হচ্ছিলেন। তা হঠাৎ, দুবছর বাদে সেটা নিয়ে পুলিশি তদন্ত শুরু হল?
আজ সাদা পোশাকে দুই পুলিশ বিভাগীয় প্রধানের অফিসে পৌঁছে একটি মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে চায়। দিন দুয়েক আগে জাতি-বৈষম্যের অভিযোগে একই কাজ করা হয়েছিল। এটি শোনার সাথে সাথে আমরা এই মুহূর্তে পুলিশের সাথে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঠিক হয়েছে, পুলিশ রেজিস্ট্রারের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। দেখা গেছে, এখানে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে না। বিপথগামী অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তারা এটিকে এফআইআর হিসাবে বিবেচনা করে। তবে তারা গত কয়েক বছরে আমদের দায়ের করা বেশ কয়েকটি অভিযোগের নজর দেয়নি।
এই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ এটাও জানিয়েছে পুলিশের অতিসক্রিয়তার জন্যই এবার ‘বর্ষামঙ্গল’ অনুষ্ঠান করা যায়নি। প্রতিষ্ঠানের পিআরও মহুয়া মুখার্জি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “অনুষ্ঠানটি বুধবার করার কথা ছিল। কিন্তু সঙ্গীত ভবনে পুলিশের কাজকর্মে আমরা এতটাই চাপে আছি যে ওই অনুষ্ঠানে অনুমতি দেওয়া সম্ভবপর হয়নি। এটা আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। আজকের নির্ধারিত ‘বর্ষা মঙ্গল’ (বর্ষার আগমনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
