
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ মাত্র দু’দিনের ব্যবধানেই অমর্ত্য সেনকে (Amartya Sen) পাল্টা চিঠি দিল বিশ্বভারতী (Visva Bharati University) কর্তৃপক্ষ। শুধু উচ্ছেদ নোটিস ধরানোই নয়, ১৫ দিনের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে। বলা হল, ১৫ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ফাঁকা করে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার সাতসকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই নতুন করে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে।
সূত্রের খবর, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ লিজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই ১৫ দিনের মধ্যে প্রতীচী ছাড়তে বলা হয়েছে বর্ষীয়ান অর্থনীতিবিদকে। শুধু তাই নয়, অমর্ত্য সেন স্বেচ্ছায় বাড়ি না ছাড়লে বলপ্রয়োগেরও হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে এই নোটিস পৌঁছেছে প্রতীচীতে। তাতে সই করেছেন স্বয়ং বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাত। নোটিসে এভাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া নিয়ে বিশ্বভারতীর নিন্দায় সরব হয়েছে বুদ্ধিজীবী মহল। যদিও এই বিষয়ে অমর্ত্য সেন বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এইমুহূর্তে শান্তিনিকেতনে নেই অমর্ত্য সেন। বিদেশে রয়েছেন তিনি। গত কয়েকমাস ধরেই চিঠিচাপাটি চলছে দু’পক্ষের। বিদেশ থেকেই সোমবার বিশ্বভারতীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তাতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কীভাবে কেউ এই জমি দাবি করতে পারেন? ‘প্রতীচী’-র জমির আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। পাশাপাশি অমর্ত্য সেন আরও বলেন, জুন মাসেই শান্তিনিকেতনে ফিরবেন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘প্রতীচী’-র গেটের বাইরে উচ্ছেদ নোটিস লাগিয়ে দেয়। যা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে শান্তিনিকেতনের বাড়ি ও জমি বেদখল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। অন্যদিকে, অমর্ত্য সেনের বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শান্তিনিকেতন থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তারমধ্যেই এই ১৫ দিনের ডেডলাইন জটিলতা এবং বিতর্ক আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
