
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য অংশ। অফিসের কাজ, অনলাইন পড়াশোনা, ভিডিও কল, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া— সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। কিন্তু অনেক সময় উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড প্ল্যান নেওয়ার পরেও ওয়াই-ফাইয়ের গতি আশানুরূপ থাকে না। ফলে কাজের মাঝখানে বাফারিং, ভিডিও কলের সমস্যা কিংবা ধীরগতির ডাউনলোডে নাজেহাল হতে হয়। তবে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ মেনে চললেই অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব ওয়াই-ফাইয়ের গতি।
* পুরু দেয়ালের কাছাকাছি রাউটার রাখবেন না: অনেকেই রাউটার টিভির পিছনে, কোনও ক্যাবিনেটের ভিতরে আবার পুরু দেওয়ালের গা ঘেঁষে রাখেন। কিন্তু এর ফলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুরু দেওয়াল বা কংক্রিট ওয়াই-ফাইয়ের প্রধান শত্রু। ওয়াই-ফাই সিগন্যালকে যদি অনেকগুলি স্তর বা বাধার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়, তাহলে ইন্টারনেট স্পিড মন্থর হয়ে যায়। তাই রাউটার সবসময়ে খোলা জায়গায় রাখুন।
* রাউটার পুনরায় চালু করুন: মাঝে মাঝে রাউটারেরও বিরতির প্রয়োজন হয়। যদি আপনি রাউটার একটানা কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে দেন, তাহলে এর কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং ইন্টারনেটের গতিও ধীর হয়ে পড়ে। সুতরাং মাঝে মাঝে রাউটারকে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য বন্ধ রাখুন। তারপর পুনরায় চালু করুন। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
* রাউটার বাড়ির মাঝখানে রাখার চেষ্টা করুন: আপনি আপনার রাউটার কোথায় রাখছেন, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এটি রাউটার কোনও এক কোণায় থাকে, তাহলে বাড়ির বিপরীত দিকের ঘরগুলিতে ভালো সিগন্যাল পাওয়া যাবে না। তাই রাউটারটি বাড়ির যতটা সম্ভব মাঝখানে রাখুন। এতে বাড়ির যে কোনও প্রান্তেই আপনি স্বাভাবিক ওয়াই-ফাই সিগন্যাল ও দ্রুত ইন্টারনেট পাবেন।
* ‘রিসেট’ বোতামের ব্যবহার: অধিকাংশ রাউটারের পিছনেই ছোট একটি রিসেট বোতাম থাকে। যদি অন্য কোনও উপায়ে কাজ না হয়, তাহলে এই বোতামটি কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখুন। এর ফলে রাউটারটি তার প্রাথমিক বা ডিফল্ট সেটিংসে ফিরে যাবে। যদি কোনও যান্ত্রিক সমস্যা থেকে থাকে, তা দূর হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন, এটি করার পর আপনাকে আপনার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক পুনরায় সেট-আপ বা কনফিগার করতে হবে।
* রাউটার আপডেট: নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে এবং কার্যক্ষমতা বাড়াতে রাউটার নির্মাতা ও আইএসপি-রা ফার্মওয়্যার আপডেট প্রকাশ করে থাকে। আপনার রাউটারে কোনও আপডেটের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা মাঝে মাঝে যাচাই করুন। রাউটার আপডেট না থাকার কারণে ইন্টারনেটের গতিও স্লথ হয়ে যায়।
ওয়াই-ফাইয়ের ইন্টারনেটের স্পিড ধীর মানেই এই নয় যে আপনাকে আরও ভালো কোনও ব্রডব্যান্ড প্ল্যান নিতে হবে। রাউটারের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ, রিস্টার্ট পদ্ধতি, অন্য কোনও উপায় কাজ না করলে রিসেট বোতাম ব্যবহার এবং নিয়মিত আপডেট নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলি কিন্তু বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
