
কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি : তাঁর বাড়ি ও অফিসে পাওয়া বিপুল পরিমাণ নগদের উৎস কী জানতে এবার কলকাতার আয়কর দফতরে তলব করা হল তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা জাকির হোসেনকে।
সাজানো থরে থরে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। কোথাও আবার চালের প্যাকেটে ভরে আলমারিতে সাজিয়ে রাখা বান্ডিল বান্ডিল টাকা। প্রাক্তন মন্ত্রী ও জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের বাড়িতে ১১ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ।
তাঁর কাছে কেন নগদ অর্থ মজুত ছিল, তার যথাযথ ব্যাখ্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বিধায়ক জাকির হোসেন। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বিধায়ককে শুক্রবার কলকাতার আয়কর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। এ প্রসঙ্গে জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিককে ফোনে বলেন, ‘‘আমি বৃহস্পতিবারই আয়কর দফতরের আধিকারিকদের বলেছিলাম, নগদ টাকা মজুদের ব্যাখ্যা দিতে পারব। আজ আমাকে বলা হয়েছে, ওই টাকা সংক্রান্ত সমস্ত নথি আয়করের অফিসে জমা দিতে।’’
প্রসঙ্গত, বুধবারই তৃণমূলের বিধায়ক জাকিরের বাড়ি, দফতর এবং চালকলে আয়কর কর্তারা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করেন। পরে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় দফতরের তরফে দাবি করা হয়, বিধায়কের বাড়ি থেকে ১১ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অফিস এবং বাড়ি মিলিয়ে মোট ১৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয় বেশ কয়েকটি সূত্রে।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, তবে বিধায়কের কাছে এত নগদ অর্থ এল কী ভাবে? বিধায়ক অবশ্য শুক্রবার জানিয়েছেন, কী ভাবে ওই অর্থ এল, তার ব্যাখ্যা তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি আয়কর দফতরে তার নথিও জমা দেবেন। কিন্তু তিনি নিজে কি হাজির হবেন কলকাতার আয়কর দফতরে? বিধায়ক অবশ্য তা স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি সমস্তটা আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেব।’’ নিজে যাবেন কি না জানতে চাওয়া হলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক।
