
শান্তিনিকেতন, ৭ ডিসেম্বর : পৌষ মেলা অনিশ্চিত ।এবার সমাবর্তন উৎসব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিল বিশ্বভারতীতে। ছাত্র আন্দোলনের জেরে গৃহবন্দী বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ।সমাবর্তনের সব রকম প্রস্তুতি সাড়া হয়ে গেলেও উপাচার্য ঘেরাওমুক্ত না হলে শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যেতে পারে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী সমাবর্তন উৎসব ।'আমরা ঘেরাও করি নি' দাবি পড়ুয়াদের।
বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, আগামী ১১ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসবের প্রস্তুতি চলছে । অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত কে। এছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল তথা বিশ্বভারতীর প্রধান, সিভি আনন্দ বোস।পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলকে।
বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য ও প্রথা মেনে আশ্রম প্রাঙ্গনে আম্রকুঞ্জের জহর বেদীতে সমাবর্তন উৎসব হবার কথা। ইতিমধ্যেই জহর বেদী তে প্যান্ডেল বাঁধার কাজ ও শুরু হয়েছে। বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, সমাবর্তনে মূলত ২০, ২১, ২২ সালে উত্তীর্ণ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পড়ুয়াদের হাতে শংসাপত্র ও ছাতিমপাতা তুলে দেওয়ার কথা । বিশ্বভারতী আচার্য হওয়ার সুবাদে দেশের প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগদান করে সফল উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ছাতিম পাতা ও শংসাপত্র তুলে দেন ।তবে প্রতিবার প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলে, বিশ্বভারতীর পরিদর্শক রূপে দেশের রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল প্রমুখ ব্যক্তি বর্গ সভা মুখ্যরূপে উপস্থিত থাকেন। ২০১৮ সালের জুন মাসে সমাবর্তন উৎসবে যোগদান করতে শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন বিশ্বভারতীর আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারও ফের সমাবর্তনের আয়োজন শুরু করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ । অতিথি দের নিমন্ত্রণ করাও হয়ে যায়। কিন্তু আচমকাই ছাত্র আন্দোলন ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয় বিশ্বভারতীতে।দুই পড়ুয়াকে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ১৬ দিন আগে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে দপ্তরে ঘেরাও করে পড়ুয়ারা।গভীর রাতে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ঘেরা মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন উপাচার্য। আন্দোলনরত পড়ুয়ারা পরদিন থেকেই তার বাসভবন পুর্বিতা সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে দেয়।ফলে ১৪ দিন ঘর বন্দি রয়েছেন উপাচার্য।
মঙ্গলবার দুপুরে সমাবর্তনের কাজের তদারকি করতে বাড়ি থেকে অফিসে যাবার প্রস্তুতি নেন।সেই মত শান্তিনিকেতন থানার পুলিশের সহযোগিতায় বাসভবন থেকে বেরতে যান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ৷ সেই সময় আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা ধর্না মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাঁর গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ফলে উপাচার্য আর বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন নি। এই ঘটনার পড়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের আয়োজন করা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় সমাবর্তন উৎসবের আয়োজনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই অবস্থায় আন্দোলনরত পড়ুয়ারা উপাচার্য কে আলোচনায় বসার আবেদন জানিয়েছে। আন্দোলনরত পড়ুয়া মীনাক্ষী ভট্টাচার্য বলেন, "উনি সমাবর্তনের আয়োজন করুন। আমরা ওনাকে গৃহবন্দী করি নি। কিন্তু আমাদের একটাই আবেদন সন্তানসম ছেলে মেয়ে দের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের আবেদন শুনুন। তারপর সবাই কে নিয়ে সমাবর্তন করুন।" সে ক্ষেত্রে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার পথে হেঁটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে কর্তৃপক্ষ হাঁটবে কিনা সেদিকে নজর রয়েছে সকলে। তবে এ ব্যাপারে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় কোন মন্তব্য করতে চাননি।
