kolkata

3 months ago

Dilip Ghosh:'জেতা আসন হারাবার জন্য প্ল্যানিং হয়েছে', নাম না করে বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপের

Dilip Ghosh
Dilip Ghosh

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ দিলীপ আছেন দিলীপেই, ফের বিস্ফোরক বিজেপি নেতা। শুভেন্দু-সুকান্তকে কার্যত নিশানা দিলীপ ঘোষের। ফল হয়েছে হিতে বিপরীত। ‘হারানোর জন্যেই কি তাঁদের পাঠানো হয়েছিল?’ দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও সুর চড়ালেন দিলীপ।

মেদিনীপুর ও রায়গঞ্জ আসন থেকে জয়ী সাংসদ দিলীপ ঘোষ ও দেবশ্রী চৌধুরীকে অন্যত্র পাঠানো হয়। একটি আসনে জয় এলেও বর্ধমান দুর্গাপুর হাতছাড়া, এদিকে মেদিনীপুর হাতছাড়া হয়েছে। দিলীপ বলেন, ‘এসব কেন করা হয়েছে এগুলো ভাবতে হবে। কিছু তো একটা ব্যাপার আছে। নাহলে যারা পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতা তাঁদের কি হারানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল? লোকে হারা আসন জেতার জন্য প্ল্যানিং করে। এতো দেখছি জেতা আসন হারাবার জন্য প্ল্যানিং হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে সরানোর ব্যাপারে বেশ কিছু যুক্তি খাঁড়া করা হয়েছিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের তরফে। দিলীপ বলেন, ‘কী সব যুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমি নাকি মেদিনীপুরে দাঁড়ালে হেরে যাব। কারণ ওখানে নাকি কুড়মিরা আমাদের বিরুদ্ধে। যেখানে কুড়মি ভোট বেশি, সেই পুরুলিয়া আসনে বিজেপি জিতেছে। আমার বিরুদ্ধে কুড়মিদের খেপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাকে সরানোর জন্য এটা করা হয়েছিল।’

এমনকি, দলের অনেক প্রোগ্রামে তাঁকে ডাকাও হতো না বলে দাবি দিলীপের। তিনি বলেন, ‘আমি চিরদিন কর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু পার্টির প্রোগ্রামে আমি ৪ বছর ধরে যাইনা। আমাকে ডাকেও না। আমার মতামতও নেয়না। আমি পার্টির কর্মীদের সঙ্গে থাকি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকি। আমি যতদিন রাজনীতি করব, আমি এরকমই থাকব। রাজনীতি ছেড়ে দিলে অন্য ভাবে মানুষের পাশে থাকব।’

ছত্রে ছত্রে ক্ষোভ উগরে পড়েছে দিলীপের গলায়। নিজের কেন্দ্র হাতছাড়া হওয়া নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ দিলীপ। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির কথায়, আমি আমার লোকসভায় (মেদিনীপুর) সময় দিয়েছি। তারপর কিছুদিন অন্য একটি রাজ্যে সময় দিয়েছি। গত ১ বছর ধরে সম্পূর্ণ সময় মেদিনীপুরে দিয়েছিলাম। টাকা পয়সা সময় সব দিয়েছি। আমাকে লড়তে দেওয়া হয়নি। তার রেজাল্ট সবাই দেখে নিয়েছে।

দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি পদে থাকাকালীন রাজ্যে ১৮টি সাংসদ আসন পায় বিজেপি। সেখানে, এবার লোকসভা আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে এসেছে। তাহলে রাজ্য সভাপতি কি বদল করা উচিত? দিলীপের ব্যাখ্যা, ‘পার্টিতে এটা হয়। ফলাফল খারাপ হলে মনে ক্ষোভ জাগে। সবাই মতামত ব্যক্ত করে। এঁরা সবাই পার্টির স্বার্থে কথা বলছেন। এঁদের মতামত নেওয়া উচিৎ। এঁদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। নাহলে কয় মাস পর সবাই এইসব ভুলে যাবে। আবার এক রেজাল্ট হবে। যাঁরা অভিভাবক এটা তাঁদের দায়িত্ব এটা। বস্তুত, খারাপ ফলের পরেই কার্যত তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন। আগামী নির্বাচনে বিজেপির এই ছত্রভঙ্গ অবস্থা কি প্রভাব ফেলবে, সেটা সময়ই বলবে।

You might also like!