
কলকাতা, ৭ ডিসেম্বর : বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির সংসদ চত্বরে শুরু হয় ‘ঠুমকা’ মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ কর্মসূচি। বেলা গড়াতেই সেই বিতর্কের আঁচ পড়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নারী বিদ্বেষের অভিযোগ আনেন তৃণমূলের মহিলা বিধায়করা।
মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন মহিলাদের বার বার অপমান করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। আগেও এমন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। বিধানসভায় মেনশন পর্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক শশী। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এ বিষয়ে বলার অনুমতি চান শশী।
স্পিকার অনুমতি দিলে তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বরাবরই মহিলাদের অপমান করে এসেছেন। এমন বহু উদাহরণ এর আগেও পাওয়া গিয়েছে। আর বুধবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য এবং অঙ্গভঙ্গী করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ।’’ শশীর কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান বিজেপির বিধায়কেরা। বিধানসভার অধিবেশেনের মধ্যেই শাসক এবং বিরোধী দলের বিধায়কদের মধ্যে শুরু হয় তরজা।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে দিল্লিতে তৃণমূলের মহিলা সাংসদেরা সংসদ চত্বরে গিরিরাজের বহিষ্কারের দাবিতে ধর্নায় বসেন। তার পরেই বিধানসভায় শুরু হয় এ নিয়ে বিক্ষোভ।
প্রসঙ্গত, কলকাতা চলচ্চিত্রোৎসবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যমূলক আচরণকে ‘ঠুমকা’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় চলচ্চিত্রোৎসবের উদ্বোধন হয়। তার পরই বুধবার সকালে সংসদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে গিরিরাজ বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য দুনিয়ায় রয়েছেন। বাংলায় যখন গরিবের অধিকার কেড়ে নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে, তখন উনি ঠুমকা লাগাচ্ছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক। উচিত নয়।’’
প্রসঙ্গত, ‘ঠুমকা’ নৃত্যশৈলীর একটি মুদ্রা। তবে তা সাধারণত খুব ‘প্রশংসাসূচক’ অর্থে প্রয়োগ করা হয় না। সেই সূত্রেই গিরিরাজের মন্তব্য শুনে অনেকের মনে হয়েছে, মমতাকে তির্যক আক্রমণ করতেই এ হেন শব্দ ব্যবহার করেছেন নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার এই সদস্য। শুধু তা-ই নয়, ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, মমতাকে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজের শরীরও দোলাচ্ছেন গিরিরাজ। আর এর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার সদস্য গিরিরাজের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের মহিলা নেতা এবং মন্ত্রীরা।
