
কলকাতা, ৬ জানুয়ারি : নবম-দশমে অযোগ্যদের সরিয়ে যোগ্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দিল স্কুল সার্ভিস কমিশন । শুক্রবারই নিয়োগের সুপারিশপত্র হাতে পেতে চলেছেন নবম-দশম স্তরে সহকারী শিক্ষক পদের অপেক্ষমান তালিকায় থাকা ৬৫ জন প্রার্থী। এই ৬৫ জনকে আজই নিয়োগের সুপারিশপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে খবর পর্ষদের।
আজ সল্টলেকের আচার্য সদনে সেই কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আজই এই ৬৫ জন অপেক্ষমান চাকরিপ্রার্থী চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে যাবেন। এদের মধ্যে অনেক চাকরিপ্রার্থী আছেন যারা গত প্রায় ৬৬৫ দিন ধরে ধরনা মঞ্চে আন্দোলন করেছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে হাসি ফুটল তাঁদের মুখে। চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, ‘আজ আমাদের মুখে সামান্য হাসি ফুটেছে ঠিকই। তবে আমাদের সহযোদ্ধারা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করব, কমিশন একে একে সবাইকে ডেকে নিয়োগপত্র দেবে।”
আসলে, হাই কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্টের মাধ্যমে (এসএলএসটি) স্কুলে নবম-দশম স্তরে সহকারী শিক্ষক পদে অবৈধভাবে চাকরির সুপারিশ পাওয়া ১৮৩ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছিল এসএসসি । নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই তদন্তেই উঠে এসেছিল অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগের সুপারিশপত্র পাওয়া ১৮৩ জন প্রার্থীর নাম। এই সকল প্রার্থীদের মধ্যে কারা স্কুলে শিক্ষকতা করছেন, সেই রিপোর্ট সংগ্রহ করেছিল এসএসসি। রিপোর্টে উঠে এসেছিল, সুপারিশপত্র পাওয়া ১৮৩ জনের মধ্যে কাজে যোগই দেননি ১০২ জন প্রার্থী। সেই রিপোর্ট হাই কোর্টে জমা করার পর বিচারপতি চলতি বছরের মধ্যেই ১০২টি শূন্যপদে অপেক্ষমান তালিকা থেকে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
সেই নির্দেশ মেনেই ওই শূন্যপদগুলিতে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু করেছে এসএসসি। তবে, সব শূন্যপদের জন্য পাওয়া যায়নি প্রার্থী। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩৪টি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয় ও ক্যাটাগরিতে আর কোনও অপেক্ষমান প্রার্থী নেই। তাই সেগুলিকে কাউন্সেলিং-এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। আরও তিনটি পৃথক ক্ষেত্রে জটিলতা এড়াতে হাই কোর্টের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বাকিগুলির জন্য ৬৫ জন প্রার্থীকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে।
