
কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর : রাজ্যের ক্লাব সংগঠনগুলি ‘পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য’ আর কোনও সরকারি টাকা পাবে না। সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, কয়েক বছর ধরে যে টাকা দেওয়া হয়েছিল সরকারের তরফে, বহু ক্লাবই তার খরচের কোনও যথাযথ হিসাব জমা দেয়নি। ফলে এই সিদ্ধান্ত।
এই অনুদান বন্ধের খবর যখন সামনে আসছে, ঘটনাচক্রে সেই সময়েই কেন্দ্র থেকে ক্রমান্বয়ে দাবি করা হচ্ছে রাজ্য কেন্দ্রীয় সহায়তার হিসেব না দেওয়ায় আরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। এই মতানৈক্যের মাত্রা ক্রমেই বেড়েছে। যার অন্যতম ফলশ্রুতি তৃণমূলের বর্তমান দিল্লি অভিযান।
এ ছাড়াও, দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া রাজ্য সরকারের অনুদান নিয়ে তির্যক মন্তব্য শোনা গিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের এক বিচারপতির গলায়। তমলুকের এক পুজো কমিটির করা মামলার শুনানি চলাকালীন শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিংহ বলেন, ‘‘আমি অনেক মামলা শুনেছি, যেখানে মানুষ বেতন পাচ্ছেন না, চাকরি পাচ্ছেন না, পেনশন পাচ্ছে না। আর পুজো কমিটিকে টাকা দেওয়া হচ্ছে!’’
যদিও নবান্ন সূত্র বলছে, বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে ক্লাবের টাকা বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রথম বছর ৭৮১টি ক্লাব এই অনুদান পেয়েছিল। সেই খাতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। পরের বছর ১৫০০ ক্লাবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যার জন্য রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হয়েছিল।
প্রকল্পের সূচনা লগ্ন থেকেই এই আর্থিক অনুদানকে রাজনৈতিক উপঢৌকন বলে আক্রমণ করেছিল বিরোধী দলগুলি। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, পরবর্তীতে আব্দুল মান্নান এই প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এই অনুদান যখন দেওয়া হত, সেই সময় বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে ছিলেন। পরে তিনিও অভিযোগ করেন, এই প্রকল্প মারফত ক্লাব সংগঠনগুলির রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। কারণ, অনুদান পেতে নতুন ক্লাব সংগঠনগুলির নাম নথিভুক্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় শাসকদলের বিধায়কদের।
