
কলকাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারিঃ অঙ্কের শিক্ষক থেকে এক্কেবারে দুর্নীতির জটিল অঙ্কে। এবার, 'গোপাল স্যারের কোচিং'-এর হদিশ মিলল। সূত্রের খবর, ছাপোষা শিক্ষক থেকে ধনকুবের, উল্কার গতিতে উত্থান গোপাল দলপতির
দমদম ক্যান্টনমেন্টের ১৯ নম্বর পোস্ট অফিস রোডে ২০০৪-২০০৫ সালে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে কোচিং শুরু করেন গোপাল দলপতি। এখানেই ভাড়া থাকতেন গোপাল। জানা যাচ্ছে, এলাকায় তিনি আগেই একটি অন্য কোচিং সেন্টারে অঙ্ক করাতেন, তাঁর যথেষ্ট নামডাক ছিল, পরবর্তীকালে তিনি নিজে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন ও কোচিং করাতেন। মূলত পড়াতেন, বিজ্ঞানের কিছু বিষয়। বানিজ্যের অঙ্কও করাতেন।
স্থানীয়দের দাবি, একটা সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ'খানেক ছাত্র-ছাত্রী এখানে পড়তে আসত গোপাল স্যরের কোচিং-এ। প্রতিবেশীর দাবি, গোপাল স্যারের কোচিং বলে নাম-ডাক ছিল বেশ। স্থানীয়দের দাবি, গোপাল দলপতি একসময় ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েন। সন্দেহ হওয়ায় উঠে যেতে বলেন বাড়িওয়ালা। ভেঙে যায় 'গোপাল স্যরের কোচিং'!
বাড়িওয়ালা মৃণাল দাশগুপ্তর দাবি, তাঁর কাছে ৫০ হাজার চেয়েছিলেন গোপাল। পরে পাওয়ানাদাররা আসতে লাগল, অনেক অভিভাবক এসে টাকা চাইত। বিয়ে হল, তা নিয়ে অনেক গোলমাল হল, আমরা মিটিয়ে দিলাম, শুনেছি ডিভোর্স হয়ে গেছে। পরে বেপাত্তা হয়ে যায়, পরে প্রচুর পুলিশও এসেছিল তাঁর কাছে। বাড়ির ঠিকানা নিয়ে ধার নেন গোপাল ব্যাঙ্ক থেকে। পরে তাঁর কাছে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের ফোন আসত।
সেই গোপালকে ঘিরেই এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য! কোথায় তিনি? কোন দলপতির হাত তাঁর মাথায় ছিল? প্রশ্ন উঠছে, আসল সেই দলপতি অবধি কি পৌঁছতে পারবে ইডি-সিবিআই?
