
কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্রাবাসে গিয়ে পুলিশ এবং ফরেন্সিক দল ছাত্রমৃত্যুর রাতের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে।
তাঁরা ওই ছাত্রের আকার এবং ওজনের একটি পুতুল সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। পুতুলটিকে তিন তলা থেকে নীচে ফেলে ঘটনার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।এদিন তদন্তের স্বার্থে ফের পুনর্নির্মাণ করা হয়। প্রধান ছাত্রাবাসের তিন তলার বারন্দা থেকে পুতুল ফেলে পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। অভিযোগ, ওখান থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল ওই পড়ুয়ার।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই পুতুল নীচে ফেলে সায়েন্টিফিক উইং, ফরেন্সিকের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতেই এই পুনর্নির্মানের কাজ হয়। এই ঘটনায় যাদবপুর থানায় ডিসি ও এসএসডি-র নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। তদন্তে আগামীর রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বৈঠকে ছিলেন ডিসি এসএসডি সহ এসি ব়্য়াঙ্কের আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে আইও, ওসি হোমিসাইডে সহ একাধিক তদন্তকারী অফিসারেরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিন তলার বারান্দার রেলিং বেশ সরু। উপরের তলার চেয়ে অপেক্ষাকৃত নিচুও বটে। বারান্দার শেষ প্রান্তে রয়েছে ৫৯ নম্বর ঘর। তার ঠিক পাশের রেলিং টপকেই নীচে পড়ে যায় ওই ছাত্র। ছাত্রদের একাংশ জটলা করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন বটে, তবে সাংবাদিকদের দেখলেই সকলের মুখে কুলুপ। কেউ কিছুই দেখেননি।
যাঁকেই সে রাতের কথা জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনিই জানাচ্ছেন, ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। হয় ঘরে পড়াশোনা করছিলেন, নয়তো হস্টেলের জেনারেল বডির বৈঠকে গিয়েছিলেন। ছাত্র পড়ে যাওয়ার কথা শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন।হস্টেলের নীচে যেখানে নদিয়ার ছাত্র পড়েছিলেন, সেই জায়গাটা আপাতত ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ছাত্রের দেহের আকৃতি অনুযায়ী সাদা চক দিয়ে চিহ্নিত করা আছে জায়গাটি। তার কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে যাদবপুর-কাণ্ডে ডিন অফ স্টুডেন্টস রজত রায়কে তলব করে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন। সোমবার সল্ট লেকের অফিসে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। গত ৯ অগাস্ট রাতে ফোন পেয়ে তিনি কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, কাকে ফোন করেছিলেন, তা জানতে চান তদন্তকারীরা।
