
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: একাধিক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই চাপে পড়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর মন্তব্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই আবহেই সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পর অবশ্য নিজের অবস্থান কিছুটা ব্যাখ্যা করেন হুমায়ুন। বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের কোনও ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে ছিল না। তিনি ‘নব্য বিজেপি’দের লক্ষ্য করেই ওই কথা বলেছিলেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, অভিযোগ বা এফআইআর নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত বলে দাবি করেন। আগাম অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য আবেদন করার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
মুসলমানদের নিয়ে ‘স্যাটাভাঙা মার’ দেওয়ার হুমকির পর হাজার বিতর্ক হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন কবীর নিজের মন্তব্যে অনড় ছিলেন। হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, যা বলেছিলেন ঠিক বলেছিলেন। ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এমন সাম্প্রদায়িক মন্তব্য অনেকেরই ভাবাবেগে আঘাত করে। তাঁদের হয়ে সোমবার বিধানসভায় কালিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক উৎপল মহারাজ এবং শিলিগুড়ির শংকর ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপরই বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। দুটো কেস আমরা রুজু করেছি। বিএনএস এর সব মামলা দিয়েছি। পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে, আমি এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। দেশে আইন শেষ কথা বলে, কোনও বাপের ব্যাটা বলে না।”
এরপরই বিধানসভা থেকে বেরিয়ে হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পুলিশ। হুমায়ুনের কথায়, ‘‘পুলিশ বলছে, প্রশাসনের আদেশানুসারে চলতে হচ্ছে। আপনার জন্য আলাদাভাবে কিছু করতে পারব না। আমি তো এখানকার এমএলএ। আর উনি বলছেন, ছেলেকে জেতাতে আমি এসব বলেছি, মুসলিম ভোট একত্রিত করতে বলেছি। ছেলেকে জেতাতে আমি রাজনৈতিক কোনও কথা বলতেই পারি। আর মুসলিম ভোট একত্রিত করার দরকার হবে না। ভোটের লড়াইয়ে দেখে নেবেন, কারা কাদের ভোট দেয়। আর আমি তো প্রশাসন বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে বলিনি। নবাগত বিজেপিদের নিয়ে বলেছি।” ওয়াকিবহাল মহলের মত, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারিতে ততটা আস্ফালন আর দেখাতে পারছেন না হুমায়ুন কবীর, কিছুটা ভয় পেয়েই সুর নরম করেছেন।
