
কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি : বেসরকারি সংস্থার ক্রুজে গঙ্গাসাগরে যেতে গিয়ে শনিবার প্রায় ২০০ জন পুণ্যার্থী বিপাকে পড়েন। কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার প্যাকেজ টুরে টাকা দিয়ে তাঁরা গঙ্গাসাগরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
তালিকায় ভিন রাজ্যেরও অনেকেই ছিলেন। ঝাড়খণ্ড, মথুরা, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে পুণ্যার্থীরা এসেছিলেন এদিন। মিলেনিয়াম পার্ক থেকে সেই ক্রুজ ছাড়ার কথা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, ভোর সাড়ে ৫টায় এই ক্রুজ ছাড়ার কথা ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা সেখানে পৌঁছেও যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, বেসরকারি সংস্থার কাউন্টার বন্ধ। কোনও কর্মী সেখানে নেই। এরই মধ্যে কারও কারও ফোনে বার্তা আসে ঘন কুয়াশার কারণে ক্রুজ ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পুণ্যার্থীরা। অভিযোগকারীরা জানান, গঙ্গাসাগরে যাওয়ার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার ক্রুজ বুক করেছিলেন তাঁরা। অনলাইনে আসন সংরক্ষণ প্রক্রিয়া চলে। ই-টিকিটও পেয়েছিলেন। সেই টিকিটের মুদ্রিত প্রতিলিপি সঙ্গে নিয়ে শনিবার মিলেনিয়াম পার্ক জেটি ঘাটে তাঁরা পৌঁছে যান। সকাল ৫টায় ছিল মিলেনিয়াম পার্কে পৌঁছনোর সময়। সকাল সাড়ে ৫টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা।
এদিকে নির্ধারিত সময় পার করে গেলেও কাউকে দেখতে পাননি তাঁরা। এই লঞ্চ সরাসরি বেণুবনে যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রীদের দাবি, টিকিটবাবদ কারও কাছে দেড় আবার কারও কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এমনকী ৪ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। প্যাকেজ হিসাবে নেওয়া হয় সেই টাকা। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বলেন, “২টো সময় ছিল ক্রুজ ছাড়ার। একটা সকাল সাড়ে ৫টা, অন্যটা বেলা ২টোয়। আমরা কেউ ট্রেনে, কেউ বিমানে কলকাতায় এসে সময়ের আগেই এখানে এসে পৌঁছই। ভোর ৪টেয় হোয়াটস অ্যাপে জানিয়েছে ক্রুজ বাতিল। এখন ফোন করছি, ফোন ধরছে না। কুয়াশার কারণে যাচ্ছে না বলল। অথচ অন্য জলযান যাচ্ছে। এমনকী টাকা ফেরতের জন্যও সময় চেয়েছে। আমাদের থেকে তো ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। শুধু যাওয়ার জন্য। ৭ হাজারে যাতায়াত।”
