
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ তুরস্ক প্রথম থেকেই চেষ্টা করে চলেছে আলোচনার টেবিলে বসিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে কিছুদিন তুরস্ক সরে থাকলেও আবার আন্তর্জাতিক মহলে তুরস্ক বড়ো ভূমিকা নিতে চলেছে। তুরস্কের বিদেশ দপ্তরের সঙ্গে শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা শুরু করতে হলে অবশ্যই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা সৃষ্টির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সেই সঙ্গে রাশিয়ার স্বার্থ ও উদ্বেগকে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন,বিশ্বের উপর মার্কিনী দাদাগিরি বন্ধ না হলে রাশিয়ার পক্ষেও এই যুদ্ধ থেকে সরে আসা সম্ভব না।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে মার্কিন ও পশ্চিমী দেশে নিজেদের স্বার্থ বন্ধ করতে হবে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লুর সঙ্গে শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানান। তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে গেলে তাতে অবশ্যই রাশিয়ার স্বার্থ এবং উদ্বেগকে বিবেচনায় নিতে হবে।
আল জাজিরা ও মস্কো টাইমস জানিয়েছে, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার প্রভাব ও কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং ইউক্রেনে রাশিয়া যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে সেটি সেই লড়াইয়ের অংশ।
চলতি সপ্তাহের প্রথমদিকে মস্কো বলেছিল, তাদের সামনে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই, কারণ কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান তারা দেখতে পাচ্ছেন না। কিন্তু এখন তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনা সম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
সঙ্কটের নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে,দুই দেশের শস্য ভান্ডার ও তার রপ্তানির বিধি নিয়ে। এদিকে রাশিয়ার শস্য রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ইউক্রেনের সঙ্গে সই হওয়া খাদ্যশস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি দিয়েছে মস্কো। রাশিয়া বলেছে, তাদের খাদ্যশস্য যদি রপ্তানি করতে বাধা দেওয়া হয় তাহলে তারাও ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে দেবে না। সামগ্রিক বিষয়টা যথেষ্ট জটিল হলেও একটা আলোচনার পথ যে খুলছে তা আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।
