
সিডনি, ১৫ এপ্রিল : অস্ট্রেলিয়ায় আছড়ে পড়ল দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন ইলসা। শুক্রবার মধ্যরাতে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সর্বশক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে এই মহা শক্তিশালী সাইক্লোনটি। ঘূর্ণিঝড়ে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলি।এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির ঘটনা তেমন না ঘটলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।
পাঁচটি সাইক্লোনের মিলিত রূপ এই ঘূর্ণিঝড় ‘ইলসা’। দেশের আবহাওয়া ব্যুরো জানাচ্ছে, সাইক্লোনটি ক্যাটাগরি-৫ এ রূপ নিয়েছে, যা সাইক্লোনের শক্তি পরিমাপের সর্বোচ্চ ধাপ। আবহাওয়া ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সাইক্লোন ইলসা শুক্রবার মধ্যরাতে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার পোর্ট হেডলেন্ড এবং ওয়ালাল ডাউনসের মধ্যবর্তী স্থান পিলবারা উপকূলে আছড়ে পড়েছে। ঘণ্টায় এর গতিবেগ ছিল ২৮৮ কিলোমিটার। ২১৩ কিলোমিটার বেগে ১৩৫ মাইল পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বয়েছে। যা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এমন শক্তিশালী বাতাস বিপজ্জনকভাবে গাছ উপড়ে ফেলা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ঘরবাড়ির ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যাওয়াই নয়, খোলা অবস্থায় থাকা বড় নৌকা, ট্রলার এবং ক্যারাভানকেও উড়িয়ে নিয়ে আছড়ে ফেলেছে। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলি।
অবশ্য যে অঞ্চলটিতে মহাশক্তিশালী এ সাইক্লোনটি আছড়ে পড়েছে সেখানে জনবসতি প্রায় নেই বললেই চলে। এই সামুদ্রিক ঝড়টির মূল কেন্দ্রে ছিল পোর্ট হেডলেন্ড নামের একটি শহর। যেখানে মাত্র ১৬ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এছাড়া এখানে আদিবাসী সম্প্রদায়, খামার, খনি এবং পর্যটক কেন্দ্র রয়েছে। সাইক্লোনের আগাম সতর্কতা হিসেবে তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা অনেকটাই কম। যদিও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিশাল।
সাইক্লোন ইলসার প্রভাবে এই অঞ্চলটিতে ভারী থেকে অতভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এছাড়া সেখানে বন্যার সতকর্তাও জারি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় মনিকা।
এর আগে, ২০০৬ সালে ২৯০ কিলোমিটার গতিবেগে এটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে। তবে সেটিও জনবসতি এলাকার বাইরে গিয়ে আছড়ে পড়েছিল ।
