
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ কাজই জলের উপর নির্ভর করে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, তৃষ্ণা পেলেই জল খাওয়া যথেষ্ট। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, তৃষ্ণা লাগা আসলে শরীরের একটি সতর্কবার্তা। অর্থাৎ সেই সময় শরীর ইতিমধ্যেই কিছুটা জলশূন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু তারও আগে শরীর বিভিন্ন ছোট ছোট সংকেত দিতে শুরু করে, যেগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না বা বুঝতে পারেন না।
∆ জেনে নিন এই সংক্রান্ত কয়েকটি সংকেত-
১. অকারণ ক্লান্তিঃ পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন শরীর দুর্বল লাগে বা কাজ করতে ইচ্ছে না করে, তাহলে তা জলের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে। শরীরে জল কমে গেলে কোষে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না, ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
২. বারবার মাথাব্যথাওঃ এটি ডিহাইড্রেশনের একটি বড় লক্ষণ। শরীরে জলের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কে সামান্য প্রভাব পড়ে, যার ফলে মাথা ব্যথা বা ভার লাগতে পারে। অনেকেই এই সমস্যাকে অন্য কারণে হচ্ছে বলে ভাবেন, কিন্তু আসলে এর পেছনে জলের অভাব থাকতে পারে।
৩. ত্বকে শুষ্কতাঃ ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা মুখ শুকিয়ে যাওয়াও শরীরে জলের ঘাটতির লক্ষণ। শরীর ঠিকমতো হাইড্রেটেড না থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়।
৪. মাথা ঘোরাঃ হঠাৎ মাথা ঘোরা বা দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা—এগুলোও ডিহাইড্রেশনের সংকেত হতে পারে। শরীরে তরলের ঘাটতি হলে রক্তচাপ ও রক্ত চলাচলেও প্রভাব পড়ে, ফলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. প্রস্রাবের রং বদলঃ প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। সাধারণত পর্যাপ্ত জল পান করলে প্রস্রাবের রং হালকা থাকে। কিন্তু শরীরে জল কমে গেলে প্রস্রাব গাঢ় হয়ে যায় এবং তার গন্ধও বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল বা তরল পান করা উচিত। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত অল্প অল্প করে জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও কমে। তাই শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে অবহেলা না করে সময়মতো জল পান করার অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার অন্যতম সহজ উপায়।
