Breaking News
 
India Hormuz:পণ্য চলাচলে বাধা চলবে না’, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই হরমুজ নিয়ে সক্রিয় ভারত সরকার West Bengal Assembly Election: প্রার্থী তালিকা নিয়ে ছাইচাপা আগুন! বিক্ষোভ নেভাতে তড়িঘড়ি ৭ আসনে রদবদল কংগ্রেসের Iran: জলপথের একাধিপত্যে ইরান! হরমুজে জাহাজ চলাচলে কোটি কোটি টাকার ‘ফি’ ভারতে পণ্য সংকটের ইঙ্গিত? Abhaya: বিজেপি প্রার্থীর পথ আটকাল ‘তৃণমূল’! পানিহাটিতে অভয়ার মাকে ঘিরে বিক্ষোভ, অশান্তি চরমে West Bengal Assembly Election:মনোনয়ন জমা দিয়ে ‘তদন্ত’ ও ‘বিচার’ দাবি মমতার! সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিতে নতুন চাপে নির্বাচন কমিশন? West Bengal Assembly Election:ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে না কি বাংলার নেত্রী? মনোনয়ন পেশের পর ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বার্তায় চমক মমতার

 

Festival and celebrations

2 years ago

Durga Puja 2023 : রায়পুর জমিদারবাড়ির হারিয়ে যাওয়া পুজো এখন বারোয়ারি পুজোর রূপ নিয়েছে

Durga Puja 2023
Durga Puja 2023

 

বীরভূম, ১৮ অক্টোবর  : শান্তিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা ছিল বোলপুরের রায়পুর জমিদারবাড়ির। ১৮৫৫ থেকে ১৮৬৩ পর্যন্ত নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিল দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের। সিংহবাড়ির সদস্যেরা দেবেন্দ্রনাথকে ‘গুরুদেব’ বলেই মান্যতা দিতেন।

তাঁর হাত ধরেই কলকাতার বাইরে ব্রাহ্ম উপাসনার পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল এই বাড়ি। সেখানে চারতলায় দেবেন্দ্রনাথের জন্য একটি ঘরও আলাদা করে সংরক্ষিত ছিল। যখনই রায়পুরে আসতেন সেই ঘরেই থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ। দুর্গাপুজো হত ওই বাড়িতে। জমিদারি বিলুপ্তর সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত দুর্গাপুজোর বনেদিয়ানা। হারিয়ে যাওয়া সেই পুজো এখন বারোয়ারি পুজোর রূপ নিয়েছে। পুজোর স্মৃতি টিকিয়ে রাখতে রাজবাড়ির বাসন্তী মন্দিরে উদ্যোগ নিয়েছেন বংশধরেরা ও গ্রামবাসীরা। রীতি মেনে আজও বাসন্তী মন্দিরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়।

অজয় নদের তীরে আদমপুরই ছিল রায়পুর গড়ে ওঠার পূর্বে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বসবাসকারী গ্রাম। অজয়ের বন্যার ফলে আদমপুর ছেড়ে সকলে আরও উত্তরদিকে উঠে আসতে লাগলেন এবং নতুন বসতি স্থাপন করলেন। রায়চৌধুরীরা তৎকালে জমিদার ছিল বলেই নতুন গ্রামটির নাম হয় রায়পুর। আর লালচাঁদের বংশে বিশ্বম্ভর সিংহ বর্ধমানের রাজার থেকে রায় খেতাব পাওয়ায়, আদমপুর পরবর্তীকালে রায়পুর নামে পরিচিতি পায়।

জানা যায়, রায়পুর জমিদারবাড়ি ও দুর্গাপুজোর বয়স প্রায় ২৫০ বছর। নথি ঘাঁটলে দেখা যাবে, প্রথম ১৫০ বছর এই বাড়ি বাসযোগ্য ছিল। বর্গী আক্রমণের সমসাময়িক কালে মেদিনীপুর থেকে তিন ছেলে, নিজের পরিবার এবং ১ হাজার তাঁতিকে নিয়ে ভাগ্য অন্বেষণে বোলপুরে বসতি গড়েন জমিদার লালচাঁদ সিংহ।

তার ঠিক ৪০ বছর পর, ১৭৮০ সালে লালচাঁদের ছেলে শ্যামকিশোর সিংহ জমিদারবাড়ি তৈরিতে হাত দেন। যে জমির উপর বাড়ি তৈরি হয়, পাঁচটি পুকুর সহ আশপাশে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমি নিয়ে। সেই সময় বোলপুরে এটাই একমাত্র চারতলা বাড়ি।

আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাড়ির ভিতরে বানানো হয়েছিল সুড়ঙ্গপথও। আলাদা করে অন্দরমহলও বানানো হয়। কিন্তু বর্তমানে সে সবের লেশমাত্র নেই। ঘরটি এখন প্রায় ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। দেবেন্দ্রনাথ-সহ বহু জ্ঞানীগুণী মানুষের আনাগোনা যেমন ছিল এই বাড়িতেই। বাংলার প্রথম অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য লর্ড সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহের জন্মও এই বাড়িতেই, ১৮৬৩ সালে। যাঁর নামে কলকাতায় লর্ড এসপি সিনহা রোডের নামকরণ ও রয়েছে।

পরিবারের সদস্য বাদল সিংহ জানান,”নেই মহারাজারা, নেই জমিদারি প্রথা। তবে পড়ে রয়েছে রাজবাড়ির এই স্মৃতিটুকু। ইতিহাসকে ধরে রাখতেই গ্রামবাসীদের সঙ্গেই দুর্গাপুজোয় অংশগ্রহণ করে সিংহ পরিবার। এখনও পুরনো রেওয়াজ মেনেই হয় যাত্রাপালা।”

বাদল সিংহ জানান,”আদি দোলা এবং পুজোয় ব্যবহৃত কিছু জিনিস এখনও রয়েছে। ইতিহাসের বহু স্মৃতি নিয়ে এখনও জেগে রয়েছে রায়পুরের জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো।” স্মৃতিকে ধরেই গ্রামবাসীদের উদ্যোগেই রীতি মেনে আজও হয়ে আসছে দুগাপুজো। জমিদারি না থাকলেও অটুট দুর্গাপুজোয় জমিদারির রীতি-রেওয়াজ। জমিদার বাড়ির পুজো আজ সর্বজনীন।


You might also like!