Entertainment

1 hour ago

Celina Jaitly: “এই হাসি কান্না থেকে তৈরি”—লাগাতার অ্যানাল সেক্স থেকে দাম্পত্যের নানান অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন সেলিনা

Celina Jaitly
Celina Jaitly

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  দীর্ঘ পনেরো বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান টেনে নিজের সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী সেলিনা। স্বামী পিটার হেগের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করার পর এবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের মানসিক লড়াই, অপমান ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তিনি। একই সঙ্গে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন অভিনেত্রী। 

ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে সেলিনা লিখেছেন, “ধীরে ধীরে সেরে উঠতে যদি দেখেন আমাকে…যদি আমাকে সুখে বাঁচতে দেখেন, আমার পছন্দের খাবার খেতে দেখেন, সুন্দর পোশাক পরে হাসতে দেখেন…শুধু এটাই। আপনি সেই রাতগুলি দেখেননি যেদিন আমি একা কেঁদেছি। আপনি সেই দিনগুলি দেখেননি যেদিন আমি শূন্যতায় দিন কাটিয়েছি। আপনি জানেন আমি কতবার নিজের উপর বিরক্ত হয়েছি। আবার আমি শান্তভাবে একা লড়েছি। কেউ দেখেনি। আমি শিখেছি কীভাবে নিজের জন্য একা টিকে থাকতে হয়।” 

অভিনেত্রীর কথায়,  “সুতরাং যখন আপনারা হাসতে দেখবেন এখন, জানবেন তা সহজ নয়। এই হাসি আসলে কান্না থেকে তৈরি হয়েছে। এই শান্তি আমি অর্জন করেছি। হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণা, আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটিয়েছি। আমি সেরে ওঠা বেছে নিয়েছি। বেড়ে ওঠা বেছে নিয়েছি। একদিন আরও শক্তিশালী, শান্ত, আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছি।” সবশেষে তিনি আরও লেখেন, “জীবনে সবসময় সঠিক দরজা খোলার পথ রয়েছে। কিন্তু হ্যাঁ… তাতে যদি আপনাকে রাতে কাঁদতে হয়, তা-ও ঠিক আছে। কান্না দুর্বলতা নয়। মুক্তি। ভগবান তোমার কথা শুনলে একদিন চোখের জল শুকিয়ে যাবে।” 


উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালে প্রেমের টানে অস্ট্রেলিয়া-নিবাসী হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হেগের সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন সেলিনা। কিন্তু বিয়ের পরপরই স্বামীর অন্য রূপ দেখতে পান বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি দাবি করেন, পণের জন্য চাপ দেওয়া হত তাঁকে। ভারতীয় প্রথার দোহাই দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বিপুল মূল্যের গয়না ও উপহার আদায় করা হয়েছিল। মধুচন্দ্রিমার সময়ও নাকি তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। তিনি বলেন, “ইতালিতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে যখন ঋতুস্রাবের মরণকামড়সম যন্ত্রণায় ভুগেছি, পিটারকে বলেছিলাম, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ও রেগে গিয়ে আমার উপর চেঁচিয়ে ওয়াইন গ্লাস ছুঁড়ে ভেঙে দেয়। যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বলেছিল- আমার জীবন থেকে বেরিয়ে যাও। সেসময়ে আমি সন্তানদের স্তন্যপান করাচ্ছিলাম। এক প্রতিবেশী এসে উদ্ধার করেন আমাকে।” 

সেলিনার সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ,  “বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ছিল পিটার। নিত্যদিন পায়ুকামে (অ্যানাল সেক্স) বাধ্য করত আমাকে। স্ত্রী হিসেবে আমার প্রতি মানসিক টান তো দূরঅস্ত, আমাকে যৌনপুতুলে পরিণত করেছিল স্বামী পিটার হগ। সন্তানদের সামনে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করত।” এমনকি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সেলিনা। তবুও দীর্ঘ পনেরো বছর তিনি সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানসিক সুস্থতা ও আত্মসম্মানের স্বার্থেই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন। তাঁর বক্তব্য, জীবনে সবসময়ই সঠিক দরজা খোলার পথ থাকে, যদিও সেই পথে হাঁটতে গিয়ে অনেক রাত কাঁদতে হয়। সেই কান্নাই একদিন শক্তিতে পরিণত হয়।  

You might also like!