
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ শুনলে একটু অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে বনদপ্তরের পরিকল্পনা, শকুনের ডিম চুরি করে বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। সূত্রের খবর, এমনটাই হতে চলেছে রাজ্যের এক মাত্র শকুন প্রজনন কেন্দ্র রাজাভাতখাওয়াতে। সেখানে এ বার চালু হতে চলেছে 'ডবল ক্লাচিং সিস্টেম'। এই মর্মে ইতিমধ্যেই বন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টা কী? প্রাণী বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একটা মাদি শকুন বছরে একটাই ডিম পারে। ফলে শকুনের বংশবিস্তার খুব কম। অথচ প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই ঝাড়ুদার পাখিকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। অনেক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এই
ডবল ক্লাচিং সিস্টেম'।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে ডিম পারা শকুনদের ডিম সরিয়ে নিলেই, ওই মাদি শকুন ফের ডিম পারে। সরিয়ে নেওয়া ডিমটিকে 'ডবল ক্লাচিং সিস্টেম' প্রয়োগ করে 'ইনকিউবেটরে' সংরক্ষণ করে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করা হয়। অন্য দিকে, প্রথম ডিম হারিয়ে শকুনটি দ্বিতীয় বার ডিম পারে। সেই ডিম ফুটেও বাচ্চা হয়। ফলে একটি মাদি শকুনের কাছ থেকে বছরে একটির পরিবর্তে, দু'টি বাচ্চা পাওয়া সম্ভব হবে। গবেষক ও শকুন প্রজনন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ সৌম্য চক্রবর্তী বলেন,"ডবল ক্লাচিং সিস্টেমের সফল প্রয়োগে শকুনদের বংশবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চারিত হবে। আমরা আশাবাদী দ্রুত ওই কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি রাজাভাতখাওয়ায় চালু করা সম্ভব হবে।'' শুক্রবার এই প্রজনন কেন্দ্র থেকে ১৩টি হোয়াইট ব্যাক্ড শকুন প্রকৃতিতে উন্মুক্ত করার পর বন দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বনকর্তারা। এই নিয়ে মোট তিন ধাপে দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণে ৩১টি হেয়াইট ব্যাক্ড প্রজাতির শকুনকে প্রকৃতিতে ছাড়া হলো।
