
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় কর্মবিরতির আবহে এক অন্য নজির গড়লেন অভিনেতা জীতু কামাল। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীরা।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর টিমের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন জীতু। কর্মবিরতির আগের রাতে ফ্লোরে উপস্থিত হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, শুটিং বন্ধ থাকাকালীন দিনগুলির পারিশ্রমিক তিনি নিজেই বহন করবেন। তাঁর কথায়, “আমি যখন খাব, তখন আমার টিমের কেউ অভুক্ত থাকবে—এটা হতে পারে না।” অভিনেতার এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা। তাঁদের মতে, এই প্রথম কোনও অভিনেতা সরাসরি তাঁদের আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেন। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জীতুর মন্তব্য, “আমি খাব তুমি থাকবে অভুক্ত। এটা তো হতে পারে না। যদিও আমার কিছু সংখ্যক শিল্পী বন্ধু বলবে এটা মিডিয়া কভারেজ পাওয়ার একটা কৌশল। ঠিক যেভাবে বলেছিল, নিজের ছবিতে মালা দিয়ে যে প্রতীকী প্রতিবাদ জীতু করেছিল সেটা একটা সার্কাস, শিক্ষিত মানুষ এমন করে না ইত্যাদি ইত্যাদি। সার্কাস আপনারা টিকিট কেটে দেখতে যান, কারণ সেটা আপনাদের দ্বারা করা সম্ভব নয়। দেখুন, আমি কিন্তু কুবেরের সন্তান নই। কিন্তু আমি আমার বাবা মার সন্তান, যে বাবা-মা শিখিয়েছে পাশের বাড়ির মানুষ যদি অভুক্ত থাকে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। অন্তত খোঁজ নিতে হয়। যতটুক আমি অর্জন করছি তার মধ্যে থেকে এইটুকু আমার পরিবারের টেকনিশিয়ানদের দিতে পারব।” তবে সাম্প্রতিক সময়টা জীতুর জন্য শুধুই প্রশংসার নয়, বিতর্কও কম হয়নি। ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ প্রতিবাদে তাঁর অভিনব অবস্থান এবং আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
তাঁর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সহ-অভিনেতা অভ্রজিৎ চক্রবর্তীও নাম না করে বিঁধে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “স্থান কাল পাত্র, এটা বেসিক। প্রতিবাদ অবশ্যই কাম্য, কিন্তু মুহূর্ত তোমার নয়। শোকে যারা আছেন তারা মিথ্যে নয়। তোমার না পাওয়া অবশ্যই বলার অবকাশ আছে, এই মুহূর্তটা নয়, ভালো থাকো শান্ত হয়ে। মা বাবা হও তারপর বুঝবে, গলায় মালা দেওয়াটা কতটা যুক্তি যুক্ত।” পালটা জবাব দিতে ছাড়েননি জীতু কামালও। সহ-অভিনেতার বিরুদ্ধে ফ্লোরে মদ্যপান করে প্রবেশের অভিযোগ আনেন ‘আর্য’। সমালোচনা সত্ত্বেও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি জীতু কামাল। বরং এই কঠিন সময়ে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন—মানবিকতার জায়গা থেকেই তাঁর এই অনন্য প্রয়াস।
