
কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর : বিজয় অমৃতরাজ ভারতীয় টেনিসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।তার অবদান ভারতীয় টেনিস কোনদিনই ভুলতে পারবে না। ভারতীয় টেনিস আজ যে জায়গায় তার কৃতিত্ব অবশ্যই পাবেন বিজয় অমৃতরাজ। তার হাত ধরেই তো আমরা পেয়েছি ভারতীয় টেনিসের রত্ন লিয়েন্ডার পেজকে। তাকে নিয়ে ভারতীয় টেনিসে রয়েছে অনেক ইতিহাস, এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। আজকের দিনে তিনি চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আজ তার ৭০তম জন্মদিন।
আন্তর্জাতিক টেনিসে অমৃতরাজকে সাফল্যের নিরিখে মাপতে গেলে ভুল করা হবে। তার প্রতিভা এবং দক্ষতা যা ছিল তাতে তার টেনিসজীবন আরো উজ্জ্বল হতে পারত। জীবনে ১৫টি খেতাব জিতেছেন। ৭০ দশকে তিনিই একমাত্র টেনিস খেলোয়াড় যিনি টেনিসকে পেশা হিসাবে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন। এরপর তার পথ ধরেই অনেকেই টেনিসকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন। কিন্তু সিঙ্গলসের ক্রমতালিকায় অমৃতরাজকে কেউই ছাপিয়ে যেতে পারেননি। ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে হয়ে ছিলেন বিশ্বের ১৮ নম্বর সিঙ্গলস খেলোয়াড়। এখনও পর্যন্ত ভারতের তো বটেই এশিয়ারও এটাই সেরা সিঙ্গলস র্যাঙ্কিং। ভারতকে দু’বার ডেভিস কাপের ফাইনালে তুলেছেন এবং ১৯৮৭ সালে ডেভিস কাপের ওয়ার্ল্ড গ্রুপে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে খেলে ছিলেন। অমৃতরাজ ভারতীয় টেনিসকে পেশাদার দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
অবসর নেওয়ার পর তিনি ভারতের টেনিসের উন্নতির জন্য তরুণদের তুলে আনতে অ্যাকাডেমি তৈরি করেছিলেন। আর অমৃতরাজের সেই অ্যাকাডেমির সেরা ফসল লিয়েন্ডার পেজ। বিশ্ব টেনিসে কোর্টের বাইরেও অমৃতরাজের অবদান উল্লেখযোগ্য। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর দরদ, ভালবাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জও। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই বিশ্বসংস্থার শান্তির দূত। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বিজয় অমৃতরাজ ফাউন্ডেশন। যে সংস্থার প্রধান কাজ ছিল সমাজসেবা। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি টেনিসের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। চেষ্টা করছেন ভবিষ্যতের টেনিস তারকাদের তুলে আনতে। তার এই নিরলস অবদানকেই আইটিএফ অর্থাৎ বিশ্ব টেনিসের নিয়ামক সংস্থা স্বীকৃতি দিয়েছে। আইটিএফের হল অব ফেমের পক্ষ থেকে প্রতি বছর এক জনকে দেওয়া হয় গোল্ডেন অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার। টেনিস কোর্ট এবং কোর্টের বাইরে খেলার প্রসার, উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি এই বিশেষ পুরস্কার। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ২০২১ সালে যা পেয়েছিলেন অমৃতরাজ। তাছাড়া ভারত সরকার তাকে ১৯৮৩ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করেছিলেন।
