
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ টানটান ফাইনালের সাক্ষী থাকল গোয়া। সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরুকে টাইব্রেকারে ৪-৩ এ হারিয়ে ভারত সেরা হল বাগান শিবির। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচের ফল ছিল ২-২।উল্লেখ্য, দু’বছর আগে ফাইনালে উঠে মুম্বই সিটি এফসির কাছে হারতে হয়েছিল। তবে এবার তেমন টা হয় নি।
এ দিন প্রথম একাদশে একটাই বদল এনেছিলেন মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। বাঁ প্রান্তে কিয়ান নাসিরির জায়গায় ফিরিয়েছিলেন চোটমুক্ত আশিক কুরুনিয়নকে। তবে বেঙ্গালুরু দলে কোনো পরিবর্তন ছিল না এদিন। উল্লেখ্য, প্রথম একাদশে সুনীল ছেত্রী না থাকলেও ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই মাঠে নামতে হল সুনীলকে। ম্যাচ চলাকালীন চোট পান শিবশক্তি। তাঁর জায়গায় নামেন সুনীল।
পুরো ম্যাচেই দাপট দেখায় সবুজ ব্রিগেড। মাঝে কিছুটা সময় বেঙ্গালুরু প্রাধান্য দেখা গেলেও, এক বারের জন্যেও এটা মনে হয়নি তারা ট্রফি নিয়ে যেতে পারে। বরং, জুয়ান ফেরান্দোর ছেলেদের দেখে মনে হচ্ছিল, বাড়তি তাগিদ কাজ করছে তাদের মধ্যে। গোটা মরসুমে অনেক নামজাদা খেলোয়াড়কে হারাতে হয়েছে চোটের কারনে, তবু না হারার পন করেই বোধ হয় এবারের টুর্নামেন্টে নেমেছিল মোহনবাগান।
শুরুতেই রয় কৃষ্ণের ভুলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। সবুজ-মেরুনের কর্নার বাঁচাতে গিয়ে হাতে বল লাগে আর তাতেই রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। দিমিত্রি পেত্রাতোস ও কোনো ভুল না করে বল জড়িয়ে দেন বিপক্ষের জালে। পরাস্ত হন গুরপ্রীত। ম্যাচে দাপট বজায় রাখে মোহনবাগান। কিছু ক্ষণ পরে আরও একটি হ্যান্ডবলের আবেদন করে তারা। কিন্তু রেফারি তা নাকচ করে দেন। এর পরেই কৃষ্ণকে অবৈধ ভাবে চার্জ করার কারণে পেনাল্টি চেয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর ফুটবলাররা। তাতেও রেফারি সাড়া দেননি। তবে এর কিছু পরে সেই কৃষ্ণাই পেনাল্টি আদায় করে দেন তার দলকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ চলছিল। তখনই ভুল করেন মোহনবাগানের ডিফেন্ডার শুভাশিস। বল ক্লিয়ার করতে বড্ড বেশি সময় লাগালেন। বক্সের মধ্যে সোজা মারেন কৃষ্ণের পায়ে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিতে দেরি করেননি।পেনাল্টি থেকে গোল করে বেঙ্গালুরু কে কিছুটা স্বস্তি দেন সুনীল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ভাল করেছিল বেঙ্গালুরু তবে ধীরে ধীরে বদলে যায় ম্যাচের রঙ। ৭৭ মিনিটে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। আবার গোল আসে রয় কৃষ্ণার পা থেকে। তবে খেলার তখনও বাকি ছিল। আবার পেনাল্টি থেকে এগিয়ে গেল মোহনবাগান। বক্সের বাইরে কিয়ানকে ফাউল করেছিলেন বেঙ্গালুরুর ফুটবলার। কিন্তু রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আবার ও ত্রাতা সেই পেত্রাতোস।
খেলার নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই আর গোল করতে পারেনি।অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে খেলা পৌঁছায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ব্রুনো র্যামিরেসের শট আটকে যায় বিশাল কাইতের হাতে, আর তাতেই মোহনবাগান ট্রফি জেতা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে।
