
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আজ তিনি বলিউডের অন্যতম বড় তারকা—সলমন খান মানেই কড়া নিরাপত্তা, অগণিত অনুরাগীর ভিড় আর ‘ভাইজান’ তকমা। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে আছে একেবারে অন্য সলমন, যাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু ও অভিনেতা রাজু শ্রেষ্ঠ (মাস্টার রাজু)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি তুলে ধরে বহু অজানা দিকের কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
রাজুর কথায়, ক্যামেরা আর খ্যাতির আলোয় আসার অনেক আগেই তাঁদের বন্ধুত্ব। তখন সলমন ছিলেন বান্দ্রার এক সাধারণ কিশোর—সাইকেল চালিয়ে পাড়া ঘোরা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, স্বাভাবিক জীবনই ছিল তাঁর পরিচয়। রাজু স্মৃতিচারণ করে বলেন, সে সময় লোকজন তাঁকে চিনত ‘মাস্টার রাজু’ হিসেবে, আর সলমন ছিলেন তাঁর পাশের একেবারে সাধারণ ছেলে। আজকের সলমনকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা বিশ্বাস করাই কঠিন। অভিনেতা হওয়ার লড়াইয়ের সময়ও সলমনের সঙ্গে বন্ধুত্বে কোনও ফাঁক পড়েনি। ‘পাথর কে ফুল’ ছবির প্রস্তুতির সময় স্কেটিং শেখা থেকে শুরু করে জীবনের ছোটখাটো মুহূর্ত—সবকিছুরই সাক্ষী ছিলেন রাজু। তাঁর মতে, সলমন সবসময়ই খোলা মনের মানুষ ছিলেন, মাটিতে পা রেখে চলতেন। তবে এই আবেগপ্রবণ স্বভাবই কখনও কখনও তাঁকে বিতর্কের মুখে ফেলেছে। রাজু জানিয়েছেন, সলমন যুক্তির চেয়ে অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই রেগে গেলে নিজেকে সামলাতে পারতেন না। প্রাক্তন প্রেমিকা সংক্রান্ত কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা কিংবা আইনি জটিলতার সময় মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে সলমনের জীবনের অস্থির অধ্যায়গুলোর কথাও উঠে এসেছে বন্ধুর মুখে।

তবে বন্ধুত্বের দিক থেকেও সলমন যে বরাবরই উদার, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজু। তাঁর কথায়, সলমনই উদ্যোগী হয়ে তাঁকে ‘বাগী’ ছবিতে সুযোগ করে দেন। পরে তাঁরা একসঙ্গে ‘চল মেরে ভাই’ ছবিতেও কাজ করেন। তবু রাজু স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কখনও সলমনের চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার মানুষ নন। বন্ধুত্ব তাঁর কাছে আত্মসম্মানের সঙ্গেই জড়িয়ে। রাজুর এই স্মৃতিচারণ যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল—পর্দার ‘চুলবুল পাণ্ডে’ বা রোমান্টিক নায়কের বাইরেও সলমন খান একজন আবেগী, অস্থির, কিন্তু সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া মানুষ, যাঁর শিকড় আজও সেই পুরনো দিনগুলিতেই গাঁথা।
