
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নিজেকে বরাবরই ঈশ্বরে অবিশ্বাসী বলে দাবি করে এসেছেন জাভেদ আখতার। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার পক্ষে কথা বলাই তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান। সেই প্রবীণ গীতিকারই এবার দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ নতুন করে ব্যাখ্যা করলেন। ১৯তম জয়পুর সাহিত্য উৎসবের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, আজকের বহু নেতা আদৌ বোঝেন না সেক্যুলারিজম কাকে বলে।
জাভেদ আখতারের মতে, ধর্মনিরপেক্ষতা কোনও বক্তৃতা শুনে বা বই পড়ে শেখার বিষয় নয়। এক্ষেত্রে জাভেদের মন্তব্য, “সেক্যুলারিজম শেখার কোনও ক্র্যাশ কোর্স হয় না। ধর্মনিরপেক্ষতা আদতে ধারণ করার, যাপন করার বিষয়। ধর্মনিরপেক্ষতা একটি জীবনধারা হওয়া উচিত। এই বোধ আপনাআপনি নিজের মধ্যে আসার কথা। যদি একদিন কারও বক্তৃতা শোনার পর আপনি শুধু কয়েকটি বিষয় মনে রাখেন, তাহলে সেই ধারণা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।” এরপরই রাজনীতিকদের নিশানা করে কটাক্ষবাণ ছোড়েন তিনি।

ধর্মের নামে বিশ্বজুড়ে হিংসা, বিভাজন ও রক্তপাতের প্রেক্ষাপটে জাভেদ আখতার বলেন, “এখন তো সেক্যুলারিজম শব্দটিকেই নেচিবাচকভাবে ধরা হয়। কিন্তু আমার নাস্তিক পরিবারে বেড়ে ওঠা। পরিবারের একমাত্র সদস্য আমার ঠাকুমা-ঠাকুরদাকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে দেখেছি মাত্র। কিন্তু ধর্ম নিয়ে বাড়বাড়ন্ত কোনও দিনই আমাদের মধ্যে ছিল না। আমার দিদিমা বলতেন তিনি নিরক্ষর হলেও তাঁর মধ্যে সংবেদনশীলতা ছিল। কিন্তু আজকালকার নেতাদের মধ্যে যদি ধর্মনিরপেক্ষ বোধের নূন্যতম বোধটুকুও থাকত!”
প্রবীণ গীতিকারের বক্তব্য, যদি আজকের নেতাদের মধ্যে সামান্য হলেও ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা থাকত, তবে সমাজ এতটা বিভক্ত হত না। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তাঁকে ‘সচ্চা মুসলিম’ হিসেবে ফেজ টুপি পড়িয়ে উপস্থাপন করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি এবং আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন। প্রায় আট দশক ধরে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের নাগরিক হিসেবে জীবন কাটিয়ে এবার সেই ভারতের মূল্যবোধ নিয়েই সরব হলেন জাভেদ আখতার।
