
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দেবলীনা নন্দী সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন দাম্পত্য জীবনের যন্ত্রণা। স্বামী প্রবাহর তরফ থেকে চলতে থাকা মানসিক চাপ, মা নতুবা সংসার—বরের দেওয়া এই ধরণের নির্দেশ দেবলীনাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় হাসিমুখের ভ্লগ, রঙিন ছবি—সবকিছু দেখে বোঝা দুষ্কর যে, অন্তরালে কতটা চাপ ও যন্ত্রণা জমে রয়েছে গায়িকার মনে।
দেবলীনার মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত আগস্টে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তার মেয়েকে। শাশুড়ি ‘সেপারেশনে থাকা’-র নিদান দিয়েছিলেন, শ্বশুরের তরফ থেকেও নানান অশালীন মন্তব্যে হজম করতে হয়েছে দেবলীনাকে। এমনকি তাঁর শ্বশুর তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি কি শুধু শুতে আসবে নাকি? ওসব চলবে না।’ দেবলীনাকে বারবার শারীরিকভাবে মারধর করা হতো, কিন্তু পুলিশে অভিযোগ জানাননি, কারণ ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে অন্য নজরে পড়ার ভয় কাজ করত। সমাজের দৃষ্টিকোণ ও সংসার ভাঙার ভয়ে দেবলীনা ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীকে সহজে ত্যাগ করতে পারেননি।

কান্না ভেজা গলায় তিনি জানালেন, দেবলীনাকে প্রচুর মারধর করা হত। কিন্তু তবুও কোনওদিন পুলিশে অভিযোগ জানাতে চাননি তিনি। কেন? এপ্রসঙ্গে সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা গায়িকার মত ছিল, সকলে ইন্ডাস্ট্রির মেয়েদের অন্য নজরে দেখে। তাই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসলে সবাই তাঁকেই খারাপ ভাববে। সমাজ কী বলবে? সেই ভয়ে ভালোবেসে বিয়ে করা প্রবাহকে ছেড়ে আসতে চাননি দেবলীনা। তাঁর মায়ের মন্তব্য, ‘মেয়ে ফোন না ধরলেই চিন্তা হত, ওকে ওরা মেরে ফেলল না তো!’ এখানেই শেষ নয়! গায়িকার মাকেও অনেক সময় নানান কটূক্তিমূলক কথা শুনতে হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ‘ভিখিরির বাচ্চা’ বলে কটুক্তি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর নেটপাড়া তোলপাড় হলেও দেবলীনার স্বামী প্রবাহ বা পরিবারের কেউ এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ নেননি। ভবিষ্যতে দেবলীনা আবারও প্রবাহর সঙ্গে থাকবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত মেয়ের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁর মা।
