Country

2 years ago

Rahul Gandhi :প্রশ্নে রাহুলের দ্বিতীয় যাত্রার সাফল্য, দল ছেড়েছেন বহু নেতা, চুরমার ইন্ডিয়া জোটও

Rahul Gandhi
Rahul Gandhi

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো’ এবং ‘ভারত জোড়ো ন্যায়’ যাত্রার সাফল্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ে দ্বিতীয় যাত্রার শেষে কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করেছে, ২০২৪-এর ভোটে রাহুলের অবদান ইতিহাস হয়ে থাকবে। বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে রাহুলের আগে আর কোনও নেতা দেশব্যাপী প্রচার করেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, পথে নেমে লাখ লাখ মানুষের কথা শোনার এমন নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই। 

কংগ্রেস নেতৃত্ব এই কথা বললেও রাজনীতির পণ্ডিতেরা মনে করছেন, রাহুলের প্রথম যাত্রা যে পরিবর্তনের হাওয়া তুলতে পেরেছিল, দ্বিতীয়টি তার ধারকাছ দিয়ে যায়নি। রাহুল ও কংগ্রেস অবশ্য বারে বারে বলেছে, এই যাত্রার সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও রাহুলের আসল উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসের সাংগঠনিক জাগরণ ঘটিয়ে দলকে ভোটমুখী করে তোলা। সেই কাজে তিনি প্রথম যাত্রায় যেমন অনেকটাই সফল, দ্বিতীয় যাত্রায় ব্যর্থতাও তেমনই প্রকট।

রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার পর কংগ্রেস কর্নাটক, হিমাচল প্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় ক্ষমতায় এসেছে। আবার হাতছাড়া হয়েছে ছত্তীসগড়, রাজস্থানের সরকার। মধ্যপ্রদেশে আশা জাগিয়েও ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি দল। হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে হারের পিছনে রাহুলের যাত্রার ব্যর্থতার থেকেও দলীয় কোন্দল এবং ভুল কৌশলকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ভোট বিশেষজ্ঞরাও।

অন্যদিকে, ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা চলাকালে দেখা গিয়েছে অন্যচিত্র। রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতাদের অনেকেই দল ছেড়ে বিজেপি বা অন্য কোনও দলে নাম লিখিয়েছেন। তাঁদের অন্যতম মহারাষ্ট্রের অশোক চহ্বান। রাজ্যের প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে পদ্ম শিবিরের রাজ্যসভার সদস্য হয়ে গিয়েছেন। 

গত রবিরার মুম্বইয়ের সভায় রাহুল নাম না করে দাবি করেন, ‘চহ্বান কংগ্রেস ছাড়ার আগে সনিয়া গান্ধীর হাত ধরে কান্নাকাটি করেন। বলেন, দল না ছাড়লে বিজেপি আমাকে জেরে পুরে দেবে। এই বয়সে আমার পক্ষে জেলের জীবন বেছে নেওয়া কঠিন।’ একই অভিযোহ করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। সনিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা মঙ্গলবার অস্বীকার করেছেন অশোক।

কিন্তু মহারাষ্ট্রেরই আর এক নেতা তথা রাহুল ঘনিষ্ঠ মিলিন্দ দেওরার দলত্যাগের কোনও ব্যাখ্যা কংগ্রেস দিতে পারেনি। মহারাষ্ট্রে দেওরা পরিবার আর কংগ্রেস ছিল সমার্থক। মিলিন্দের বাবা মুরলি দেওরা ছিলেন গান্ধী পরিবারের ঘরের লোক। স্বয়ং মিলিন্দ ছিলেন রাহুলের বন্ধু স্থানীয়। সেই তিনি একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। মিলিন্দের সঙ্গেই কংগ্রেস ত্যাগ করেন মহারাষ্ট্রে দলের সংখ্যালঘু মুখ বাবা সিদ্দিকী। তিনি অজিত পাওয়ারের এনসিপি-তে যোগ দিয়েছেন। 

মধ্যপ্রদেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কমলনাথের সপুত্র বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠলে রাহুল যাত্রা থামিয়ে দিল্লি ফিরে ওই প্রবীণ নেতাকে দল না ছাড়ার অনুরোধ জানান। কমলনাথ কংগ্রেসে থেকে গেলেও তাঁর অনুগামীদের বড় অংশ বিজেপির হাত ধরেছে। জানা যাচ্ছে, রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা চলাকালে সবচেয়ে বেশি কংগ্রেস নেতা দল ছেড়েছেন মধ্যপ্রদেশেই। 

হালে কংগ্রেস ছেড়েছেন বাংলা, বিহার, ওডিশা, উত্তর প্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান, ছত্তীসগড়, পাঞ্জাবের প্রথমসারির নেতারা। রাহুলের দ্বিতীয় যাত্রা চলাকালে হিমাচলে কংগ্রেস সরকার হাতছাড়া হওয়ার জোগার হয়েছিল। এখনও সেখানে সরকারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দলবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পার্টি। 

শুধু কি কংগ্রেস? রাহুলের প্রথমযাত্রার সাফল্যকে মর্যাদা দিয়েই ইন্ডিয়া জোটে শামিল হয়েছিল বহু দল। দেখা গেল রাহুল তাঁর দ্বিতীয় দফার যাত্রা নিয়ে বিহারে প্রবেশ করার মুখে সেখানে ইন্ডিয়া জোটের শরিক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার শিবির বদল করে ফের বিজেপির হাত ধরে সরকার গড়েছেন। তার আগে বাংলায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, বাংলা কেন, দেশের কোথাও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবে না তাঁর দল। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, ভোটের আগে তৃণমূল ইন্ডিয়া জোটে নেই। অবশ্য রাহুল-প্রিয়ঙ্কার দৌত্যের ফলেই শেষ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। 

রবিবার মুম্বইয়ে রাহুলের ‘ভারত জোড়ো ন্যায়’ যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি। কিন্তু তাঁদের রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে ওই দুই নেতা বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাননি। সবচেয়ে আশ্চর্যের হল, মুম্বইয়ের সভায় গরহাজির ছিলেন সিপিএম ও সিপিআইয়ের দুই শীর্ষ নেতা সীতারাম ইয়েচুরি এবং ডি রাজা। কংগ্রেস বামেদের স্বাভাবিক মিত্র বলে পরিচয় দিলেও রাজ্যে রাজ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধের কারণে সীতারাম ও রাজা মুম্বইয়ে রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠান বয়কট করেন বলে খবর।


You might also like!