Country

1 year ago

Narendra Modi: কন্যাকুমারীতে ধ্যানে বসবেন মোদী! ১ জুন বিরোধীদের বৈঠক

Modi will meditate in Kanyakumari! Opposition meeting on June 1
Modi will meditate in Kanyakumari! Opposition meeting on June 1

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ঠিক তখনই, যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে চলেছেন। আগামী ১ জুন লোকসভা নির্বাচনের ভোট সপ্তমী। কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তার ঠিক পাঁচ দিন আগেই ইন্ডিয়া জোট বা বিরোধীদের ব্লকের নেতাদের বৈঠকে ডেকেছেন। সপ্তম দফার ভোটের দিন ১ জুন সেই হাইভোল্টেজ বৈঠক।

কিন্তু কথা হল, ওইদিনই যখন শেষ দফায়, দেশের ৫৭টি লোকসভা আসনে ভোট হবে, সেই দিনই কেন ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের বৈঠক ডাকা হল? প্রশ্নটা অনেকেরই মাথায় ঘুরছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা রকম ডাইমেনশন খুঁজছেন। তবে এটা স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, এই বৈঠকে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তী কৌশলও ঠিক হতে পারে।

তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও এই বৈঠকে যাবেন না। তিনি এর আগে বারবার বলেছেন যে, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটে তিনি আছেন। ইন্ডিয়া নামটাও তাঁর দেওয়া বলে তিনি জানান। এমনকী, ইন্ডিয়া জোটের সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনের কথাও বলেছেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১ জুনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি যাচ্ছেন না।

কারণ হিসেবে জানান, সেই একই দিনে ভোট পড়েছে। রাজ্যের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট, গত লোকসভা ভোটে বিপর্যয় হলেও, এই ৯টি আসনই ছিল ঘাসফুলের দখলে, ফলে এইসময় রাজ্য ছেড়ে যেতে নারাজ মমতা। তাছাড়া, রেমাল ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণকার্য চলছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি রাজ্য ছেড়ে বৈঠকে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১ জুনই ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক কেন? ২ জুনও হতে পারত। তবে কি ওইদিন বৈঠক ডাকার পিছনে কেজরিওয়াল ফ্যাক্টরও কাজ করছে।

আসলে, এই নির্বাচনে আম আদমি পার্টি এবং ইন্ডিয়া ব্লকে তার প্রভাবটা তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লি, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা, গোয়া এবং গুজরাটের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে আপ এবং ইন্ডিয়া ব্লক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। এদিকে পঞ্জাবে তাদের মধ্যে বনিবনা নেই। পাঁচটি রাজ্যে তারা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এদিকে পঞ্জাবে কংগ্রেসই আপের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবু ইন্ডিয়া জোটে আপের ভূমিকা উল্লেখ করার মতো।

এদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরে নির্বাচনি প্রচারের জন্য অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত আছেন। তবে তাঁর এই জামিনের মেয়াদ আগামী ১ জুনই শেষ হচ্ছে। ২ জুন আত্মসমর্পণ করতে হবে। এর মধ্যে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করে কেজরিওয়ালের মনোভাবটা বুঝে নিতে চাইছেন খাড়গে-রাহুলরা।

সলতে পাকানোর সময় থেকেই, এমনকী পটনার প্রথম বৈঠক থেকে জোটের কোনও নামকরণ হয়নি। ইউপিএ অনেকদিনই তামাদি হয়ে গিয়েছে। ফলে গোড়ার দিকে, যখন বৈঠক হচ্ছিল, সেই সময় থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল, এই জোটে এমন বহু দল রয়েছে যারা পরস্পরের কট্টর বিরোধী। ফলে তাদের এক ছাদের তলায় এনে একসঙ্গে নির্বাচন লড়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের আগে বারবার সেই বিষয়টাই ফুটে উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস 'একলা চলো'র ডাক দিয়েছে এবং ইন্ডিয়া জোটের দুই শরিক বঙ্গ কংগ্রেস ও বঙ্গীয় সিপিআইএম-কে বিজেপির সঙ্গে এক পাল্লায় তুলে দিয়েছে গোটা ভোটপর্বে। অন্যদিকে, কেরালায় বাম দলগুলি অন্য সমীকরণে ভোটে লড়ছে। সেখানে কংগ্রেস তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। পঞ্জাবে আম আদমি পার্টি এবং জম্মু-কাশ্মীরে মেহবুবা মুফতির দল পিডিপিও একাই নির্বাচনে লড়াই করেছে। আবার তামিলনাড়ু থেকে শুরু করে বাংলায় বামরা কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়ছে।

আম আদমি পার্টি পাঁচটি রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলেও পঞ্জাবে একা লড়ছে। ইন্ডিয়া ব্লকের ব্যানারে তৃণমূল কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। সেখানে কংগ্রেসও তৃণমূলকে সমর্থন করেছে। এই রকম হজপচ আবহে ১ জুন বৈঠক ডাকার পিছনে অন্যতম কারণ হল নির্বাচনি প্রচারের সময়কার এই পরস্পর বিরোধী মনোভাব দূর করা এবং ফলাফলের আগেই বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দলগুলিকে একত্রিত করা।

আমাদের মনে রাখতে হবে, কংগ্রেস মানেই গয়ংগচ্ছ ভাব। ধীরে সুস্থে, বহু মাস ধরে কোনও প্ল্যান করা হবে। তারপর সেটা রূপায়ণ করতে করতে আরও কয়েক মাস। এমনই একটা ভাবমূর্তির কথা বা অভিযোগের কথা বলেন বিরোধীরা। সেই ইমেজটাই এবার ভেঙে ফেলতে চাইছে কি কংগ্রেস? এর আগে জেডিইউ নেতা তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থান সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের সময় জোটের কোনও সভা না ডাকার জন্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও ধীর গতিতে কাজ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবরা।

লোকসভা নির্বাচনের মনোনয়নের শেষ দিন এগিয়ে আসছিল। এদিকে মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে বিহার পর্যন্ত আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইন্ডিয়া জোট পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে ছিল। বৈঠকের পর বৈঠকই হয়ে চলেছিল। এবার নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের এই সভা ডাকাটা তাই সেই ভাবমূর্তি ভাঙারই প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও, কংগ্রেস চাইছে ভোট গণনার দিন বিরোধী দলের এজেন্টদের বিশেষ বিশেষ বিষয়ে সতর্ক করে দিতে।

একদা কংগ্রেস নেতা এখন সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে রাজ্যসভার সদস্য আইনজীবী কপিল সিব্বাল এ বিষয়ে কিছু দিশা তৈরি করেছেন।

সেগুলো গণনার সময় হাজির এজেন্টদের বোঝানো দরকার। ওই বৈঠকে এসব বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে কংগ্রেস সভাপতি মনে করছেন। সে জন্য সব দলের হাতে বাড়তি দু-এক দিন সময় রাখা দরকার। এ কারণেই কংগ্রেস ১ জুন বৈঠকের দিন ধার্য করেছে।

প্রথম বৈঠকে নীতীশ কুমারকেই এই জোটের চালিকা শক্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছিল। তাঁকেই আহ্বায়কের ভূমিকায় দেথা গিয়েছিল। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় বৈঠকের পর থেকেই ছবিটা সম্পূর্ণ পালটে যায়। দ্বিতীয় বৈঠক থেকেই কংগ্রেসকে চালকের আসনে দেথা যায়। রাহুলরা বোঝাতে শুরু করেন, বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসই স্টিয়ারিং হাতে রাখুক। নির্বাচন শেষের আগেই তাই সবাইকে বৈঠকে ডেকে খাড়গে সম্ভবত এই বার্তাই দিলেন যে, কংগ্রেসই জোটের চালিকাশক্তি ছিল, আগামিদিনেও থাকবে।

৪ জুন লোকসভা ভোটের ফল বেরোবে। দুপুরের মধ্যেই বোঝা যাবে, কী হতে চলেছে। তখন যদি বোঝা যায়, বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেক্ষেত্রে আগে থেকেই তার জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইছে কংগ্রেস। হয়ত, এই মনোভাব থেকেই ১ জুন বৈঠক করে, সে বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে কংগ্রেস। এ তারই নান্দীমুখ। তবে শোনা যাচ্ছে, তৃণমূল সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারকে ফোন করে ১ জুনের বদলে ৪ জুন দুপুরের পরে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। মমতার এই প্রস্তাব থেকে বোঝা যাচ্ছে, কংগ্রেস-সিপিএমের বঙ্গীয় অবতাররা যাই বলুন, ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে আছে তৃণমূল।

You might also like!