
গ্যাংটক, ৮ ফেব্রুয়ারি : শীতেও শান্ত হচ্ছে না সিকিম। বরং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকদিন যে ভাবে রাস্তায় নামছে সাধারণ মানুষ, তাতে বড় ধরনের গণ্ডগোলের আশঙ্কা দানা বাধছে। এই আশঙ্কা থেকেই বৃহস্পতিবার বিধানসভা ভবনের চারপাশে ১৪৪ ধারা বলবৎ করার সিদ্ধান্ত নিল গ্যাংটক জেলা প্রশাসন। ওইদিন সকাল ১০টায শুরু হওয়ার কথা বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। তার আগে বুধবার ফের বনধের মুখোমুখি হচ্ছে পাহাড়ি রাজ্য সিকিম। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে এই বনধ ডেকেছে সিকিম নাগরিক সমাজ ও জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। তাতপর্যপূর্ণ ভাবে বনধকে সমর্থন করেছে রাজ্যের শাসক দল সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা। এদিকে, সিকিমের একের পর এক বনধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিলিগুড়ির বাজারে। তপ্ত সিকিম পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিযে অশনি সংকেত দেখছেন সমতলের ব্যবসাযীরা।
দেশের শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে রিভিউ পিটিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয সরকার। কেন্দ্রীয আইনমন্ত্রী কিরণ রিজিজুর আশ্বাসের পাশপাশি টুইটের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে অমিত শা-র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কিন্তু বনধ প্রত্যাহার করছে না জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ও সিকিম নাগরিক সমাজ। বরং বুধবারের বনধকে সর্বাত্মক রূপ দিতে মঙ্গলবার সিকিমজুড়ে প্রচার চালিয়েছে দুটি সংগঠনই। ইতিমধ্যে টানা দু-দিনের বনধের মুখোমুখি হয়েছে পাহাড়ি রাজ্যটি। ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে সিকিম, তাতে অশনি সংকেত দেখছে প্রেম সিং তামাং প্রশাসনও। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার রইয়েছে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা ক্রান্তিকারি মোর্চাকে দায়ী করেছে প্রধান বিরোধী সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। অধিবেশনের দিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবনকুমার চামলিংয়ের অনুগামীরা গণ্ডগোল বাঁধাতে পারে আশঙ্কা থেকে ওই দিন বিধানসভার বাইরে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
