
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার সরগরম হয়ে উঠল শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহল। মিছিলে অংশ নেওয়ার পর সভামঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরকে একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলে মমতাকে ‘২জি’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি অভিষেককে উদ্দেশ করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? ভাইপোর কী হয়, সময় হলে দেখতে পাবেন।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকারে আসার পর উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। উত্তরকন্যায় কাজকর্ম দেখা, উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি ঠিক করার উদ্দেশ্যে প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গ যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনও শিলিগুড়ি গিয়ে উত্তরকন্যায় বৈঠক করেন তিনি। দুপুরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিল কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সভামঞ্চ থেকে ‘ইন্ডি’ জোট, সিপিএম, মমতা-অভিষেককে আক্রমণ করেন।
শিলিগুড়ির সভামঞ্চ থেকেও পরিবারতন্ত্র নিয়ে জোর সওয়াল করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। গান্ধী পরিবার ও কালীঘাটকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। ৪জির সঙ্গে তুলনা গান্ধী পরিবারকে। নেহরু, ইন্দিরা, রাজীব, রাহুল পরিবারতন্ত্র চলছে কংগ্রেসে! অন্যদিকে, বাংলার রাজনীতিতেও তৃণমূলকে এই ইস্যুতে খোঁচা দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারতন্ত্র চালাচ্ছেন বলে নিশানা করে মমতাকে ২জি কটাক্ষ করলেন।এদিন নাম না করে আরও একবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) নিশানা করলেন শুভেন্দু। “ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? ভাইপোর কী হয় সময় হলে দেখবেন”, সেই কথা জোর গলায় বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই সরকার শাহজাহানকেও ছাড়েনি, পুষ্পাকেও ছাড়েনি।” তাহলে কি কোনও বড় ইঙ্গিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী? সেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি যত দিন আছে, ততদিন মমতা-অভিষেক ভোটে জিততে পারবেন না। সেই কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। শুধু তাই নয়, সিপিএমকেও নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে বিরোধীরা রামলীলা ময়দানে কর্মসূচি করেছে। সেই নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যারা ভোটে হেরে গিয়েছে, তারা দিল্লিতে একজোট হয়েছে বলে তাঁর খোঁচা। ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’রা দেশের ভিতরে শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলে ফের আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু।। তিনি বলেন, “ব্লিচিং-ফিনাইল দিয়ে কলকাতা ও হাওড়া সাফ করে তারপর শিলিগুড়িতে ঢুকে পড়ব।” এর পাশাপাশি ফের একবার উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন তিনি। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণাও করেন শুভেন্দু।
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, “৬ মাসে ১০ বার উত্তরবঙ্গে এসেছি। উত্তরবঙ্গকে বাদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ নয়। বিজেপিকে যদি প্রথম কেউ জায়গা দিয়ে থাকে তা হল দার্জিলিং। প্রথম এমপি দিয়েছে। কাজ দিয়ে ভরিয়ে দেব।” শুভেন্দু জানিয়ে দেন, রায়গঞ্জে এইমস হলে, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার হাসপাতাল, বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ হবে। বাদ যাবে না শিলিগুড়িও। আইআইটি বা আইআইএম গড়ার জন্য জায়গা দেখার কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গে আরও উন্নয়ন হবে। পর্যটনে উন্নতি আসবে। উত্তরবঙ্গে রেলেরও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এনজেপি স্টেশন অমৃতভারত স্টেশন হয়েছে। বন্দেভারত চলছে। আগামী বছরের এপ্রিল মে মাসে হাসিমারা বিমানবন্দর উদ্বোধন হবে। তারপর কলাইকুন্ডা, বালুরঘাটেও এয়ারপোর্ট উদ্বোধন হবে। পরের বছর মালদায় বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি শুরু হবে। তিনি আরও জানান, গঙ্গা ভাঙন রোখার জন্য দিল্লিতে গিয়েছেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরের ২১টি চা বাগানে তালা লাগিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি মঙ্গলবার তিনি খুলে দিয়েছেন। আরও ২০টি চা বাগান খোলার অঙ্গীকার করেন শুভেন্দু।
শিলিগুড়ির সভা থেকে শুভেন্দু জানান, সরকারে আসার পর তিনটি পরীক্ষায় বসেছে সরকার। ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর। তিনটি পরীক্ষাতেই পাশ করেছে বিজেপি। এবার কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে জিতবে দল। তারপর ফেব্রুয়ারিতে শিলিগুড়ি পুরভোটেও জয়ী হবে। তাঁর কথায়, “নন্দীগ্রাম, রেজিনগর, ফলতায় যা হয়েছে কলকাতাতেও তাই হবে, ফেব্রুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতেও হবে।”
