
রন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বি-প্রণাম সেরে ব্রিগেডের পথে শুভেন্দু: রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই বাংলার নতুন অধ্যায়। আজ ৯ মে, ২০২৬। একদিকে যখন রাজ্যজুড়ে পঁচিশে বৈশাখের প্রভাতফেরি চলছে, ঠিক তখনই বাংলার প্রশাসনিক পালাবদলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারা।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেখেন, “কবিগুরুর জীবন আমাদের স্বাধীন চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের প্রেরণা দেয়। তাঁর আদর্শ, চিন্তাধারা ও সাহিত্য চিরকাল আমাদের পথপ্রদর্শন ও অনুপ্রেরণা জোগাতে থাকবে।”
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ পংক্তি উল্লেখ করে কবিপ্রণাম সারেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, “তাঁর অমর সৃষ্টি, মানবতাবাদী চিন্তাধারা ও দেশপ্রেম যুগে যুগে আমাদের পথ দেখিয়ে চলেছে।” রবীন্দ্রজয়ন্তীতে কবিপ্রণাম করেই আবার রাজ্য-রাজনীতিতে জনতার দরবারে আন্দোলন কর্মসূচিতে ফিরবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি অরাজনৈতিক সংগঠন তিনটি জায়গায় এই অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাইলেও, সূত্রের খবর, অনুমতি মেলেনি। জানা গিয়েছে, নিজের বাড়ির লাগোয়া চত্বরেই শনিবার বিকেলে রবীন্দ্রজয়ন্তী করবেন মমতা। গাইবেন ইন্দ্রনীল সেন, বাবুল সুপ্রিয়-সহ বহু শিল্পী, তাঁরা মূলত তৃণমূল পরিবারেরই। এরপর পরবর্তী কর্মসূচি গুলি শুরু হবে। সূত্রের খবর, নির্বাচন এবং গণনার পদ্ধতি নিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক প্রচার হলেও শুরুতেই সরাসরি নতুন সরকারের কোনও সমালোচনায় যাবে না তৃণমূল। নতুন সরকার কী করছে, ভোটের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না, এর গতিবিধি দেখেই বক্তব্যের অভিমুখ চূড়ান্ত করবেন নেত্রী। তবে জনগণের ইস্যুতে সব সময়ই সরব থাকবে দল।
আপাতত দলের অগ্রাধিকার নির্বাচনোত্তর হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি। দলের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে মোট ভোটের যে সামান্য তফাত আছে, তার থেকে বেশি ভোটার বাদ গিয়েছেন এবং ভোট কারচুপিও গণনার দিন আরও বেশি ভোটে অসঙ্গতি হয়েছে। আপাতত এর সব তথ্যপ্রমাণ নিয়ে দলিল-দস্তাবেজ তৈরি করছে তৃণমূল। শুক্রবার কালীঘাটের বাড়িতে নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, রাজীব কুমার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। দফায় দফায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে দলে দলে মানুষ বিগ্রেড আসছেন। রাস্তায় সেইসব মানুষের উচ্ছ্বাস ধরা পড়েছে। ছেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শিশির অধিকারী।

গতকাল, শুক্রবার বিকেলেই জানা যায়, বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই নন্দীগ্রাম-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় উচ্ছ্বাস ধরা পরয়ে। গেরুয়া আবির ওড়ানো থেকে মিষ্টি বিলি চলেছে। শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি শান্তিকুঞ্জেও আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। শান্তিকুঞ্জের বাইরেও ভিড় করেন শুভেন্দু অনুগামীরা। পরে জানা যায়, ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
মা গায়ত্রীদেবী অসুস্থ। তিনি শপথে না আসতে পারলেও ছেলের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণে সাক্ষী থাকতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শিশির অধিকারী। এছাড়া শুভেন্দুর ভাই বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, তাঁর স্ত্রী সুতপা অধিকারী, তাঁদের কন্যা তিয়ান, ছোট ভাই কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী ও তার স্ত্রী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। শুভেন্দু অধিকারীর মা গায়ত্রী অধিকারী বলেন, “আমার আজ খুব খুশির দিন। ছেলের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণায় আমি ভীষণ আনন্দিত। শুভেন্দু বরাবরই খুব ভালো।” পূর্ব মেদিনীপুর থেকে দলে দলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ব্রিগেডে হাজির হচ্ছেন।
এদিন সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে ব্রিগেডমুখী জনগণ। ধর্মতলা এসে দাঁড়াচ্ছে একের পর এক বাস। দলে দলে ময়দানে পৌঁছে যাচ্ছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। ব্রিগেডে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। চার হাজার পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বিজেপিশাসিত ১৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
