দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের পক্ষ থেকে যে আটটি বিশেষ নির্দেশিকা বা ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হলো— সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার রুখে সব দলের জন্য সমান সুযোগ (Level Playing Field) তৈরি করা।
কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, সমস্ত সরকারি অফিস, দফতর থেকে বিজ্ঞাপন, নির্বাচনী হোর্ডিং, পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। তা ছাড়া কমিশনের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি কোষাগারের টাকায় কোনও রকম নির্বাচনী বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।
রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশে কমিশনের বার্তা, গৃহকর্তার অনুমতি ব্যতীত কোনও বাড়়ির সামনে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। দেওয়াল লিখন বা দলীয় পতাকা লাগানোর ক্ষেত্রেও বাড়ির গৃহকর্তার অনুমতি নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে।
নির্বাচনী বিধিভঙ্গ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নম্বর (১৯৫০) দিয়েছে কমিশন। এই নম্বরে ফোন করে ডিইও বা আরও-দের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। তা ছাড়া কোথাও আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে ‘ইসিআইনেট’-এ গিয়ে ‘সি-ভিজিল অ্যাপে’ অভিযোগ জানাতে পারবেন যে কেউ। পাঁচটি রাজ্যে কমিশন ৫,৭১৩টিরও বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড মোতায়েন করছে। এই স্কোয়াড অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে পদক্ষেপ করবে। তা ছাড়া সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে মোট ৫২০০টি স্ট্যাটিক সারভেল্যান্স টিমও মোতায়েন করছে কমিশন।
প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভাবে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সব দলকে সমান সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় সভা করতে চাইলে রাজনৈতিক দলগুলিকে ‘ইসিআইনেট’-এ ‘সুবিধা’-য় আবেদন করতে হবে। যে দল আগে আবেদন করবে, তাদেরই সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে।
