
দুর্গাপুর, ৩১ জুলাই: 'কলকাতা, বাগডোগরার পর অন্ডাল বিমানবন্দরে কার্গো টার্মিনাল লজিস্টিক শিল্পের চাহিদা পুরন করবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল ছাড়াও কৃষিজ পণ্য, মাছ, ফল, অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে কার্যকারিতা পাবে।' সোমবার অন্ডাল বিমান বন্দরে কার্গো টার্মিনালের উদ্বোধনে এসে এমনটাই আশা প্রকাশ করেন রাজ্যের শিল্প- বাণিজ্য ও উদ্যোগ বিভাগের মন্ত্রী শ্রীমতী ডঃ শশী পাঁজা।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুর্গাপুর লাগোয়া অন্ডাল কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল চালু হয়। শিল্পাঞ্চলের উদ্যোগপতিদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই বিমান বন্দরে কার্গো পরিষেবা চালুর। সেই মতো মুখ্যমন্ত্র স্বয়ং উদ্যোগী হয়েছিলেন। কোভিড মহামারীর পর গত দুই বছরে বিমানবন্দরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে দিল্লি ও মুম্বাই থেকে (দুটি ফ্লাইট)। এছাড়াও চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ এবং বেঙ্গালুরু সহ দৈনিক ছয়টি উড়ান পরিষেবা রয়েছে। তার সঙ্গে নতুন সংযোজন হল বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল। জানা গেছে, এই মুহূর্তে ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট বিমান সংস্থার দ্বারা পরিচালিত করা হবে। বিমানবন্দরের নবনির্মিত কার্গো টার্মিনালটি অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যাবস্থা রয়েছে। এক্স-বিআইএস মেশিন থেকে শুরু করে থাকছে সর্বক্ষণের সিসিটিভি নজরদারি, অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অফিসের জন্য জায়গা এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। টার্মিনালটি এমন ভাবেই তৈরি করা হয়েছে এয়ার কার্গো চলাচলে আরও সহজ হয়। এই টার্মিনালটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন, বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিস প্রজেক্টস লিমিটেড। কার্গো এর সমস্ত কাজ বা অপারেশন শুরু করার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক দ্বারা অনুমোদন পেয়েছে। যেসব বিমান পরিষেবা রয়েছে, তাতে যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি ২-৫ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন ক্ষমতা রয়েছে। এই কার্গো টার্মিনাল বিমানবন্দরের ব্যবসাকে আরও অনেকটা ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিমানবন্দরের জন্য অতিরিক্ত সাফল্য আনবে বলে আশাবাদী কতৃপক্ষ। সোমবার নতুন টার্মিনালটি উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিল্প- বাণিজ্য ও উদ্যোগ বিভাগের মন্ত্রী শ্রীমতী ডঃ শশী পাঁজা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিস প্রজেক্টস লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিএফও মিসেস অঞ্জু মাদেকা। তিনি বলেন, “ এই কার্গো টার্মিনালটি সারাদেশে বাণিজ্য তথা দ্রুত পণ্য নিয়ে আমদানি ও রপ্তানি ব্যাবস্থা কে সহজতর করে তুলবে। বছরে প্রায় ২৫,০০০ মেট্রিক টনের ওপর কার্গো পৌঁছে দেওয়া যাবে। এই টার্মিনালের মাধ্যমে অববাহিকা অঞ্চলে অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী কার্গো চলাচলের বিশাল সম্ভাবনা থাকছে। ফল, কাঁচা সব্জি, মাছ সহ দৈনন্দিন ই-কমার্স, ঔষধ, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, নানা যন্ত্রাংশ এবং খুচরা জিনিসপত্র নিয়ে বানিজ্য করতে এই কার্গো টার্মিনালের ব্যাবহার করা হবে।" রাজ্যের শিল্প- বাণিজ্য ও উদ্যোগ বিভাগের মন্ত্রী শ্রীমতী ডঃ শশী পাঁজা বলেন," ৫ হাজার বর্গফুটের তৈরী কার্গো টার্মিনালটি। মাসে ৪০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করে। প্রথম বেসরকারি গ্রীনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্প। ইতিমধ্যে দুটি এয়ারলাইন্স পরিষেবা রয়েছে। কার্গো টার্মিনাল লজিস্টিক শিল্পের চাহিদা পূরণ করবে। আসানসোল- দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী, ঝাড়খন্ড রাজ্যের উদ্যোগপতিরা পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাবেন। আগামীদিনে আরও ব্যাপ্তি ঘটাবে।"
