kolkata

1 day ago

Suvendu Adhikari: হিন্দুধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari
Suvendu Adhikari

 

কলকাতা, ৬ জানুয়ারি  : “হিন্দুদের আপনি সবসময় অপমান করছেন শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য। প্রত্যেক হিন্দু এবার আপনাকে সব অপমানের জবাব দেবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হিন্দুধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তাঁকে এভাবে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুবাবু সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এর মধ্যে গুলিয়ে ফেললেন, লক্ষীর পাঁচালী বলতে গিয়ে ভুলভাল সরস্বতী মন্ত্র আওড়ালেন !!!

হিন্দু ধর্ম কে যিনি 'গন্দা ধর্ম' বলেন, মহাকুম্ভ কে মৃত্যুকুম্ভ বলেন, তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে, ভাগবদ্গীতা সম্পর্কে কতটুকু জানেন সে নিয়ে বাস্তবিকই সন্দেহ রয়েছে। মাননীয়া আপনি হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে যখনই মুখ খোলেন, তখনই আপনি কাল্পনিক, আজগুবি, অসত্য সব কথাবার্তা বলেন।

মাননীয়া আপনার জ্ঞাতার্থে বলি 'পরমহংস' একটি সংস্কৃত উপাধি, পরমহংস হিন্দু ধর্মের সেই গুরুদেব কে বলা হয় যিনি একজন আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ, যিনি পরম জ্ঞান অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞানের অধিকারী বা মোক্ষ লাভ করেছেন, শুদ্ধমনা, সংযত আত্মা, নির্বিকার, সমদর্শী এবং জাগতিক মায়া ও আসক্তি থেকে যিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।

'পরমহংস' শব্দের অর্থ 'সর্বোচ্চ রাজহাঁস'। রাজহাঁস যেমন জল ও স্থল উভয় স্থানে বিচরণ করতে পারে, তেমনি পরমহংস প্রাপ্ত গুরুদেবের জাগতিক ও আত্মিক উভয় বাস্তবতায় স্বচ্ছন্দ বিচরণ। যে কারণে শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবকে পরমহংস বলা হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান, সৃষ্টির স্বামী, তিনিই সম্পূর্ণ জগতের সৃষ্টিকর্তা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণর উপাসক পরমহংস হতে পারেন, কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে পরমহংস বলা যায় না, বললে ভগবানকে অসম্মান করা হয়।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনকে যে জ্ঞান প্রদান করেছিলেন তাই ভাগবদ্গীতা, যা পরবর্তীকালে মহর্ষি বেদব্যাস লিখেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতার কথক, লেখক নন, তাই মাননীয়া আপনি মিথ্যাচার করছেন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন আত্মার ধর্ম হল 'স্বধর্ম'। সঠিক কর্ম, কর্তব্যনিষ্ঠা, এবং ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ ভক্তি, জ্ঞান ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আত্ম-উপলব্ধি ও পরম শান্তি লাভ করাই ধর্ম। অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং নিজের মুক্তি ও জগতের কল্যাণের জন্য প্রচেষ্টা করাই ধর্ম। মাননীয়া আপনি নিজের মতো করে ধর্মের যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সেটা ভাগবদ্গীতায় লেখা নেই আপনি আপনার কাল্পনিক ভাষনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামে, গীতার বাণী বলে চালিয়ে দেবার দুঃসাহস করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের কেউ 'এসো মা লক্ষ্মী, বসো মা লক্ষ্মী' এরকম পাঁচালী পড়েছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এমনকি ভুলভাল সরস্বতী প্রণাম মন্ত্রকেও পাঁচালী বলে আপনি চালানোর আজ চেষ্টা করলেন। আসলে হিন্দুদের আপনি সবসময় অপমান করছেন শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য। প্রত্যেক হিন্দু এবার আপনাকে সব অপমানের জবাব দেবে।”

You might also like!