
মালবাজার, ১৮ অক্টোবর : মালবাজারে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক হয়। সেখানে সাম্প্রতিক হড়পা বানে স্বজনহারাদের পরিবাররে একজনকে চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁদেরও ১ লক্ষ টাকার চেক দেন মুখ্যমন্ত্রী। আদর্শ বিদ্যাভবন স্কুলে সেই বৈঠক করেন।
জলপাইগুড়ির মালবাজারে হড়পা বানের সময় উদ্ধারকাজে নেমে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানোর স্বীকৃতি হিসেবে সাতজনকে এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি উদ্ধারকারী প্রত্যেককে সিভিক পুলিশের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি৷ এ ছাড়াও দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি৷
মঙ্গলবার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেউ দোষী হলে তারা শাস্তি পাবে।’ এরপর বন্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগে জল ছেড়ে বন্যা করে দেওয়া হত। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি ডিভিসির-র সঙ্গে কথা বলে জল ছাড়ার তদারকি করেছেন। এদিন জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক সভায় সেই সাতজনের হাতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মহম্মদ মানিক, দীপক ভোদকা, মনোজ মুন্ডা, দারা সিং, সৌমেন চৌধুরী, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, আমিরা মাহাতো- এই সাত জনকে মঞ্চে ডেকে নেন মমতা৷ কীভাবে তাঁরা সাঁতার কেটে প্রবল স্রোতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে উদ্ধার করলেন, উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি, সরকারি কোনও সাহায্য তাঁদের প্রয়োজন কি না, তা জানতে চান মমতা৷
উদ্ধারকারীদের মধ্যে কেউ চা বাগানে কাজ করেন, কেউ আবার গাড়ি চালান৷ তাঁদেরকে সিভিক পুলিশ হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এ ছাড়াও উদ্ধারকারী প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যদিও উদ্ধারকারীদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়ে দেন, তাঁরা বর্তমান পেশাতেই থাকতে চান৷উদ্ধারকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছিল, তাঁদের পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রত্যেককেই গ্রুপ সি এবং কনস্টেবল পদে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে৷ প্রত্যেককেই মাল ব্লকের ভিতরেই চাকরি দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ দুর্গা পুজোর বিসর্জন চলাকালীন জলপাইগুড়ির মাল নদীতে ভেসে গিয়ে আট জনের মৃত্যু হয়৷ ওই বিপর্যয়ের মুহূর্তে স্থানীয় সাত জন যুবক উদ্ধার কাজে নেমে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেন৷
