
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে উত্তর ২৪ পরগনার চাকলায় লোকনাথ বাবার ব্রহ্মচারী মন্দির ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সেই মন্দিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর পুজো ও দেন তিনি।
মন্দির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। সেই টাকাতেই গোটা মন্দির ঢেলে সাজানো হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে ও বাইরে একাধিক পরিবর্তনও করা হয়। মন্দিরের মধ্যে পুজোর সামগ্রী রাখার জন্য একাধিক ঘর বানানো হয়েছে। ভোগ বিতরণের জন্যও আলাদা ঘরের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।মন্দিরে ঢোকা বেরনোর জন্য বিশ্ববাংলা গেটের আদলে তৈরি করা হয়েছে পেল্লাই দরজা। এছাড়াও মন্দির চত্বরে ৩০-৩৫টি ফুলের দোকান বা কাউন্টার তৈরি করা হয়েছে। যাঁরা এতদিন ওখানে ফুলের ব্যবসা করতেন, তাঁদের জন্য স্থায়ী দোকান বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্দির চত্বরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত পুণ্যার্থীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, তার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এই মন্দিরে প্রতিদিনই ভোগ খাওয়ানো হয়। সেই জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে বসে ২০০০ হাজার জন খেতে পারবেন। এছাড়াও রাতে যদি পুণ্যার্থীরা থাকতে চান তবে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন গেস্ট হাউজ তৈরি করা হয়েছে মন্দির চত্বরে।
প্রসঙ্গত, প্রতিদিন চাকলাধামে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়। মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন এই মন্দিরটি সংস্কার করে ডিসেম্বরের মধ্যেই উদ্বোধন করতে। রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের তত্ত্বাবধানে গত দু'মাস ধরে পর্যটন দফতর জোরকদমে কাজ করে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মন্দির উদ্বোধনের পরে সংক্ষিপ্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকে ভোটের সময় ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন, আর সারা বছর অত্যাচার করেন। আমরা সেটা করি না। আমাদের কাছে ধর্ম মানে ভালবাসা। মায়ের শাড়ির আঁচলের মতো। মা যেভাবে শাড়ির আঁচল দিয়ে আগলে রাখেন, যত্ন নেন, আমরাও সেভাবে এই বাংলায় পরস্পর পরস্পরকে আঁকড়ে রেখেছি। একতাই বাংলার শক্তি।”
উল্লেখ্য, তীর্থস্থানের উন্নয়নে রাজ্য ইতিমধ্যে তৎপর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তীর্থস্থানের উন্নয়নে এখন পর্য়ন্ত ৪০০ কোটির বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণেশ্বর স্কাই ওয়াকে সম্ভবত ৯০ কোটি খরচ হয়েছে। কালীঘাটে স্কাই ওয়াক হচ্ছে। তারীপাঠ, ফুরফুরা শরিফ, গির্জা, গুরুদ্বার আমরা সব তীর্থস্থানেরই পরিকাঠামো উন্নয়ন করছি। পুরীর কায়দায় দিঘায় গড়ে উঠছে জগন্নাথ দেবের মন্দির। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ওই মন্দিরের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার দিঘা বেড়াতে গেলে জগন্নাথ দর্শনও হয়ে যাবে।” ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে দুর্গাপুজো, বড়দিনের মতো প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবেই রাজ্য ছুটির ব্যবস্থা করেছে । সেকথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলার মূল শক্তি হল একতা। সেটা ধরে রাখতে হবে।"
