
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের হুঁশিয়ারিতেও বরফ গলল না। পুনর্বাসনের দাবিতে আবার সরব শিল্পশহরের বস্তিবাসী। দুর্গাপুরে জবর দখল উচ্ছেদের প্রতিবাদে ও পুনরবাসনের দাবিতে সেইলের ডিএসপি নগর প্রশাসনিকভবন ঘেরাও করল ক্ষুব্ধ বস্তিবাসী। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল শিল্পশহর দুর্গাপুরে। বস্তিবাসীদের নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল বলে পাল্টা তোপ বিজেপি বিধায়কের।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে ডিএসপি কারখানার আধুনিকিকরনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সেইল। তার জন্য ডিএসপির জমিতে জবরদখল উচ্ছেদ শুরু করেছে। আর ওই বসবাসকারীদের উচ্ছেদ নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পশহর দুর্গাপুর। রাষ্ট্রায়ত্তর সংস্থা সেইলর অধীনস্থ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা এবং মিশ্র ইস্পাত কারখানার জমির দখল করে বসবাসকারী মানুষদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে উচ্ছেদের নোটিশ সেইল দিতেই পুনর্বাসবের দাবিতে সরব দুর্গাপুরের পলাশডিহা, এএসপি গেট বস্তি, তামলা বস্তির বাসিন্দারা। বস্তিবাসীর দফায় দফায় বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পশহর। এর আগে বেশ কিছু এলাকায় জবরদখল করে বাড়ী নির্মান ভেঙে দিয়েছে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ অভিযান জারি রয়েছে ডিএসপির। কয়েকদিন আগেই বস্তিবাসিদের পাশে থেকে সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওহালিয়া ও বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওহালিয়া সেদিন কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "পুনরবাসন না দিয়ে, তাদের স্থায়ী ঠিকানা না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না। পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদ করা হলে বুলডোজারের সামনে আগে আমি দাঁড়াবো।" একইরকমভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষন ঘড়ুই। দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচন। শিল্পশহরজুড়ে ডিএসপির জমি, রেলের জমি ছাড়াও এমএএমসি, এডিডিএ, বনবিভাগ সহ প্রায় ৪০ হাজারের বেশী বস্তিবাসী রয়েছে। ভোটের আগে বস্তিবাসীর মনজয় করতে বিজেপি সাংসদ, বিধায়করা বুলডোজারের সামনে দাঁড়ানোর মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তাদের ওই হুঁশিয়ারি আশ্বাসেও বস্তিবাসির মন গলেনি সেটা মঙ্গলবার আবারও প্রমান করল। এদিন দুর্গাপুরে ডিএসপির নগর প্রশাসনিকভবন ঘেরাও করল বস্তিবাসীরা। হাতে প্লেকার্ড নিয়ে অবস্থান শুরু করে মহিলারা। তাদের দাবী, "দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে বসবাস করছি। পাট্টা জোটেনি। পুনরবাসনও জোটেনি। পুনরবাসন না দেওয়া পর্যন্ত কোনভাবে উচ্ছেদ করা চলবে না।' পিঙ্কি সিং নামে এক বিক্ষোভকারি জানান," লড়তে হলে লড়ব, মরতে হল মরব। তবুও পুনরবাসন না পাওয়া পর্যন্ত উঠব না।" এদিকে পুরভোটের আগে জবরদখল উচ্ছেদ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক লক্ষন ঘড়ুই বলেন," বস্তিবাসীদের নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল। পুনরবাসন দেওয়া হোক। সেটা আমাদেরও দাবি। পুনরবাসন দেওয়ার দায় রাজ্য সরকারের।"
কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী বলেন," দুর্গাপুরে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন রয়েছে। সাংসদ ও বিধায়ক। ডিএসপির আধুনিকিকরনের দাবি আমাদের। তার জন্য জমি প্রয়োজন। পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারিদে পুনরবাসনের দায় কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের। বিজেপি সাংসদের এক কলম চিঠিতে সেই কাজ হয়ে যাবে। অথচ তিনি সেসব না করে বস্তিবাসিদের হাওয়া গরম করছেন। পুরভোটের আগে সহানুভুতি আদায় করছেন।" তিনি আরও বলেন," একই সঙ্গে যারা সরকারি জমির ওপর মোটা টাকার বিনিময়ে ঘর বসিয়েছেন, রাজ্যের শাসকদলের সেসব নেতাদের মুখটা প্রকাশ্যে আসুক।"
দুর্গাপুরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার রমাপ্রসাদ হালদার বলেন," বিজেপি সাংসদ বিধায়করা চোরকে চুরি করতে বলে গৃহস্থকে সতর্ক হতে বলছেন। দুর্গাপুরে বিজেপির কোন সংগঠন নেই। পুরসভা ভোটের আগে মানুষের মন জয় করতে নাটক করছে। বিজেপি সাংসদ বুলডোজারের সামনে দাঁড়াবো বলেছে। আমরা বুলডোজার নামতে দেব না। পুনরবাসন দেওয়ার দায় শুধু রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারের। বিজেপি সেই দায় এড়াতে পারেন না। আমাদের অনুমান, সম্প্রসারনের নামে হয়তো ডিএসপির জমি আবারও অন্য কোন বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেবে।"
ডিএসপির মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বেদবন্ধু রায় (বিবি রায়) জানান," আইন মেনে জবর দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আগাম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তারপর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।"
