
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো যে একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে ফের তার একটি নিদর্শন পাওয়া গেল প্রান্তিক বাঁকুড়ার এক গ্রামে। পড়ুয়া আছে, আছে স্কুল ভবন, রয়েছে ক্লাস রুম, কিন্তু নেই স্থায়ি শিক্ষক। একজন শিক্ষক থাকলেও পঠনপাঠন না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত অথৈ জলে এখন। মাসের পর মাস এখন প্রাইভেট টিউশনেই ভরসা বাঁকুড়ার তালডাংরা এলাকার সাতমৌলি চাঁদবিলা গ্রামের ছেলেমেয়েদের। ক্ষুব্ধ অবিভাবকেরা, তাদের দাবী স্কুল শিক্ষা দপ্তরের উদাসীনতায় ছাত্রছাত্রিদের পড়ার পাট লাটে উড়তে বসেতে। মাসের পর মাস ধরে মোটা মাইনে দিয়ে টিউশানিই ভরসা ৩২ জন পড়ুয়ার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ২০১৮ সালে ঘটা করে চালু করা হয়েছিল বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের সাতমৌলি চাঁদাবিলা জুনিয়ার হাইস্কুল। যথেষ্ট সংখ্যক ক্লাসরুম তৈরি থেকে শুরু করে অন্যান্য পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে মাস কয়েক আগে বন্ধই হয়ে যায় স্কুলের দরজা।সাতমৌলি ও চাঁদাবিলা দুটি বর্ধিষ্ণু গ্রামের শিশুদের পড়াশোনার জন্য দুটি গ্রামেই পৃথক দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী পুন্যাশা ও উপরশোল গ্রামেও রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু ২০১৮ সালের আগে পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণি বা তার উঁচু ক্লাসের পাঠ নিতে ওই চার গ্রামের পড়ুয়াদের ছুটতে হত চার কিলোমিটার দূরের সাবড়াকোন হাইস্কুলে। পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে সাতমৌলি গ্রামে ২০১৮ সালে সাতমৌলি চাঁদাবিলা জুনিয়ার হাইস্কুল নামের একটি স্কুল চালু করে রাজ্য সরকার। স্কুলের পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও ওই স্কুলে কোনও স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় প্রাথমিক ভাবে দুজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ওই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠন পাঠন শুরু করা হয়।দুই গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন পড়ুয়া পড়াশোনাও শুরু করে ওই স্কুলে। পরবর্তীতে দুই অতিথি শিক্ষক অবসর নেওয়ায় আরও একজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুল শিক্ষা দফতর। ওই অতিথি শিক্ষকের কাঁধেই এতদিন চারটি ক্লাসের পঠন পাঠন থেকে শুরু করে মিড ডে মিল দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, মাস ছয় আগে ওই অতিথি শিক্ষক পথদুর্ঘটনায় আহত হলে তিনি স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করেন। আর তার ফলে বন্ধ হয়ে যায় স্কুলের দরজা। গ্রামবাসীদের দাবি, স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত থাকা ৩২ জন পড়ুয়ার কাছে এখন ভরসা শুধুমাত্র প্রাইভেট টিউশানি। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করে ফের পঠন পাঠন স্বাভাবিক ভাবে চালু না করলে ওই পড়ুয়াদের পঠন পাঠনে বড়সড় ক্ষতি হয়ে যাবে। স্কুল শিক্ষা দফতর অবশ্য শিক্ষকের অভাবে ৬ মাস ধরে স্কুল বন্ধ থাকার কথা মানতে চায়নি। জেলা স্কুল পরিদর্শক পীযূষ কান্তি বেরার দাবি ৩ মাস স্কুল বন্ধ রয়েছে। দ্রুততার সাথে ফের ওই স্কুলে একজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুল চালুর তোড়জোড় চলছে। পরবর্তীতে আরও দুজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, একাধিক বার বিভিন্ন স্তরে স্কুলটি খোলার আবেদন জানিয়েও এখনও পর্যন্ত মেলেনি কোনও সুরাহা। এই বিষয়ে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন সব জায়গায় দরবারে গেলেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন কর্তারা। তবে সমস্ত জট কাটিয়ে কবে নতূন শুরু হবে এই স্কুল? কবে নতূন ভাবে শুরু হবে পঠনপাঠন? কবে সেই পুরোনো ছন্দে দেখা যাবে এই শিক্ষাঙ্গনকে? সারাগ্রাম এবং পড়ুয়ারা এখন সেদিকেই তাকিয়ে
