
কলকাতা, ৬ নভেম্বর : প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতারের পরই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, পশুখাদ্যে লালু, মানুষের খাদ্যে বালু। ইডির তদন্তে তেমনই যোগসূত্র উঠে আসছে বলে খবর।
পশ্চিমবঙ্গের রেশন দুর্নীতির তদন্তে এবার নয়া মোড়। জুড়ে গেল বাংলা ও বিহার। রেশন দুর্নীতির সঙ্গে সোমবার বিহারের পশু খাদ্য কেলেঙ্কারি মামলার সম্ভাব্য যোগ পেল তদন্তকারী সংস্থা। পশু খাদ্য দুর্নীতি মামলার মূল অভিযুক্তদের নাম জড়াল রেশন দুর্নীতিকাণ্ডেও! এমনকাই দাবি ইডি-র।
জ্যোতিপ্রিয়র প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাসের বাড়িতে তল্লাশির সময়ে একটি মেরুন ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে ডায়েরির কার্যত প্রতি পাতায় লেখা রয়েছে ‘এন্ট্রি’ শব্দ। আর তাকে ঘিরেই রহস্য। কারণ সেই শব্দের নীচেই লেখা রয়েছে একাধিক ব্যক্তির নাম।
ইডির দাবি, রেশনকাণ্ডের তদন্তে যে সংস্থার নাম উঠে এসেছে, সেই অঙ্কিত ইন্ডিয়া লিমিটেডের দুই ডিরেক্টর দীপেশ চন্দক ও হিতেশ চন্দক ১৯৯৬ সালে বিহারের পশু খাদ্য দুর্নীতি মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন। পরে ওই মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে তাঁরা ছাড়া পেয়ে যান।
সূত্রের খবর, ওই মামলায় দীপেশ বয়ান দেন, তিনি ৬০ কোটি টাকা লালুপ্রসাদ যাদবকে দিয়েছিলেন। ইডি-র দাবি, দীপেশ ও হিতেশ চন্দক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। চন্দকদের রাইস মিল ও আটা কলে রেশনের চাল এনে, গম ভাঙিয়ে তা প্যাকেটবন্দি করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হত বলে কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি।
সূত্রের খবর, অভিযানে উদ্ধার করা ডায়েরিতে একের পর এক চাল কল, গম কল মালিকের নাম লেখা রয়েছে। নাম রয়েছে এক গুচ্ছ ব্যবসায়ীর। সেই সব তথ্য ধরেই একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা চালিয়েছে ইডির তদন্তকারীরা।
