
কলকাতা, ১১ অক্টোবর : মঙ্গলবার কলকাতা ও কামদুনিতে জোড়া প্রতিবাদ মিছিলের পর বুধবার দিল্লি গেলেন প্রতিবাদীদের এক প্রতিনিধিদল। ১০ বছর আগে ‘গণধর্ষণের পর খুন’-এর মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবার দিল্লিতে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের হয়ে সওয়াল করবেন প্রয়াত সুষমা স্বরাজের মেয়ে বাঁশড়ী।
বুধবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের উড়ানে দিল্লি পাড়ি দিলেন তাঁরা। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হবে স্পেশাল লিভ পিটিশন। মৌসুমীদের দাবি, ফাঁসির রায় তুলে নেওয়ার পর রাজ্যের বিচারব্যবস্থার উপর থেকে আস্থা হারিয়ে গিয়েছে। তাই সুবিচারের আশায় দিল্লি যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে গিয়েছেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা সহ, নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরাও।
মৌসুমী ও টুম্পা কয়ালরা বলেন, ”আমরা তো আশায় ছিলাম। কিন্তু সুবিচার পাইনি। দিল্লি যাচ্ছি। আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব। ওখানেও কতটুকু সুবিচার পাব সন্দেহ আছে। বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে গেছে। এখন তো আমরা ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাব না। পুরনো রিপোর্টই সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করতে হবে। তবু আশা নিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক, কী হয়!”
এদিন বিস্ফোরক দাবি করেন কামদুনি কাণ্ডের প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী ও টুম্পা। তাঁদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় বড় আইনজীবীর রাজ্য সরকার সাহায্য নিচ্ছে। তবে কামদুনি কাণ্ডের ক্ষেত্রে তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে হালকা চালে এই মামলা লড়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডার গলাতেও একই সুর। রাজ্য সরকার কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গুরুত্ব দেয়নি বলেই অভিযোগ।
২০১৩ সালে এক কলেজ ছাত্রীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। নিম্ন আদালতে ওই মামলায় ২ দোষীকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ ফাঁসির সাজা রদ করে দেয়। এবং যাঁদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাদের বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছিল বেঞ্চ। এবার সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে বিজেপি।
