
কলকাতা : সাংসদ এবং অভিনেত্রী হিসাবে কাজের চাপ প্রচুর, তাই আদালতের হাজিরা দেওয়া থেকে কিছুদিনের জন্য রেহাই চেয়েছিলেন নুসরত জাহান। তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করল নিম্ন আদালত।
গত সপ্তাহেই নুসরৎকে মঙ্গলবার সমন করেছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। নুসরতের আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপাতত তাঁকে আদালতে হাজির হতে হবে না। তবে তার পর বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ তথা টলিউডের অভিনেত্রী নুসরতকে যদি আদালত হাজিরা দিতে বলে, তবে তিনি আদালতে আসবেন বলে জানিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আলিপুর জাজেস কোর্টে শুনানি ছিল নুসরতের মামলার। তাঁর বিরুদ্ধে যে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা, তার ভিত্তিতেই সাংসদ অভিনেত্রীকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে বলা হয়। সেই বিষয় নিয়ে আলিপুর জাজেস কোর্টের দারস্থ হয় নুসরত।
নুসরতের আইনজীবী আদালতকে জানান, সাংসদ এবং অভিনেত্রী হিসাবে তাঁর কাজের চাপের জন্য তিনি হাজিরা দিতে পারছেন না। এ ব্যাপারে তাঁকে হাজিরা থেকে আরও কিছু রেহাই দেওয়ার কথাও বলেন নুসরতের আইনজীবী।
সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী সরিতা সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘ উচ্চ আদালত আগেই হাজিরায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আজ নিম্ন আদালতে সেই স্থগিতাদেশ নিয়ে শুনানি ছিল। আপাতত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী শুনানিতে যদি আসতে বলা হয় তা হলে উনি আসবেন। আজ শুধু মেয়াদ বৃদ্ধি করার আবেদন করা হয়েছিল!’’
ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত। অভিযোগ, ২০১৪-’১৫ সালে ৪০০-র বেশি প্রবীণ নাগরিক একটি সংস্থায় অর্থ জমা দেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। বদলে তাঁদের এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা ফ্ল্যাটও পাননি , টাকাও ফেরত পাননি।
নুসরতকে ওই সংস্থার ‘অন্যতম ডিরেক্টর’ বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা। এ ব্যাপারে তিনি ইডির দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন । সম্প্রতি এই অভিযোগের ভিত্তিতে নুসরতকে ইডি দফতরে ডেকে পাঠানোও হয়েছিল। যদিও নুসরত দাবি করেছিলেন, তিনি এ ধরনের কোনও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত নন।
