
কলকাতা, ২৪ অক্টোবর : ঘূর্ণিঝড় আশঙ্কা থাকলেও রাজ্যজুড়ে শক্তির আরাধনায় ব্যস্ত। কালীপুজো উপলক্ষ্যে কলকাতা থেকে কামাখ্যা, বীরভূম, বারাসাতে সাড়ম্বর আয়োজিৎ হচ্ছে এই উৎসব। বর্তমানে দুর্গাপুজোর মতোই কালীপুজোতেও থিমের হিড়িক উঠেছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে আবির্ভূতা হন মা কালী৷ মহা শক্তিধর শুম্ভ-নিশুম্ভের হাত থেকে ত্রিলোককে রক্ষা করতেই দেবীর সৃষ্টি৷ এই উৎসবে তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে। সকালে স্নানের পর মা তারাকে রাজবেশে সাজিয়ে তোলা হয়। এদিন চুনরি পরানো হল মাকে। এরপর পঞ্চ উপাচারে মঙ্গলারতি এবং নিত্যপুজো সঙ্গে মাকে ভোগ হিসাবে অর্পণ করা হবে শীতল ভোগ। অসমের গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরে প্রতিবারের মতো এবারও সাড়ম্বর আরাধনা হচ্ছে। নীলাচল পাহাড়ের কোলে ব্রহ্মপুত্রের তীরে এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনী রচিত রয়েছে। এটি একান্ন পীঠের অন্যতম। কথিত রয়েছে কামাখ্যায় মায়ের যোনি পড়েছিল। এই মন্দিরে সারা দেশ থেকে ভক্তদের সমাগম থাকে। এদিন দেবী মাকে মহাস্নান করিয়ে, ষোড়শপচারে ভোগ নিবেদন করা হয়। এরপর মহা বলিদানের পর মাছ ভোগ ও বলিদানের মহপ্রসাদ ভোগও নিবেদন করা হয় মাকে। সকাল ৭টার পর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের প্রবেশদ্বার। এখানে শুধু দর্শন নয়, মাকে স্পর্শ করে পুণ্যলাভ করতে আসেন ভক্তরা। এছাড়াও একান্ন পীঠের অন্যতম বীরভূমের নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দির। কথিত আছে, এখানে মায়ের গলার নলি পড়েছিল। এদিন মাকে রাজবেশে সাজিয়ে ভোরবেলায় মঙ্গলারতি করার পর পুজো শুরু হয়। সারাদিন ধরে পুজো চলে। ১৭০৩ সালে মাতৃসাধক শঙ্কর ঘোষ প্রতিষ্ঠা করেন ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরে। কথিত আছে, এই কালী বাড়িতে আসতেন শ্রী রামকৃষ্ণ। এদিনে বিশেষ পুজো নয় প্রতিদিনের মতো নিত্যপুজোই হয়ে থাকে। এখানে দেবীমূর্তি জাগ্রত বলে মনে করেন ভক্তরা। এছাড়া টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালী মন্দির। এই পুজোর বিশেষত্ব হল, কালীপুজোর দিন কুমারী পুজো হয়। এদিন সকাল থেকে ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথির গভীর রাতে যোগিনী পরিবৃতা হয়ে আবির্ভূতা হন মা কালী। জগতে কল্যাণ এবং শান্তি স্থাপনের জন্য ভক্তরা এই দেবীর আরাধনা করে থাকেন। তিনি অসুখ বিনাশিনী৷ মহা শক্তিধর শুম্ভ-নিশুম্ভের হাত থেকে ত্রিলোককে রক্ষা করতেই দেবীর সৃষ্টি। নরমুণ্ডই তার অলঙ্কার, যুদ্ধে পরাজিত সেনাপতিদের মুণ্ডের মালা মা কালীর কণ্ঠের শোভা। বলা হয়, পঞ্চাশটি মুণ্ডের এই মালা আসলে জ্ঞানের প্রতীক। যে সেনাপতি তাঁর চুল ধরে অপমান করেছিল, তাঁর মুণ্ড দেবী হাতে ধরে থাকেন। মৃত সেনাপতিদের হাতের পাতা দেবী কোমরে ধারণ করেন। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই করতলও জ্ঞানের প্রতীক।
