
দিনহাটা, ২৬ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে শনিবার থেকেই উত্তপ্ত হয়েছে কোচবিহারের দিনহাটা। নিশীথের উপর হামলার পর রাতে একাধিক বিজেপি কর্মীদের বাড়ি এবং একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠেছে। বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয় বলেও অভিযোগ। সব মিলিয়ে রবিবার সকাল থেকেই দিনহাটার পরিস্থিতি থমথমে।
গতকালর দুপুরে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষের পর রাত থেকেই দিনহাটা মহকুমার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে বিজেপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। দিনহাটা শহর মণ্ডল সম্পাদক মুন্না সাও এর বাড়িতে যেমন ভাঙচুর করা হয়, তেমনই সাহেবগঞ্জের বিজেপির কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। বামনহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কালমাটি গ্রামে বিজেপি নেতাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয়। কালমটি এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপি কর্মীর বাড়ি। বিজেপির ২৬ নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতি কৃষ্ণকান্ত রায়ের বাড়িতে আগুন ধরানোর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে ওই এলাকায়। ঘটনার সময় কৃষ্ণকান্ত বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর বাড়ি জ্বলছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাড়ি ঘর। বিজেপি করার অপরাধেই এএমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ১০০ বেশি তৃণমূলকর্মী এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল।
নিশীথের কনভয়ে হামলা এবং অশান্তির অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাঁদের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে টুইট করেছেন নিশীথ প্রামাণিকও। পাশাপাশি বোমা ছোড়া হয়েছ বলেও অভিযোগ করেন নিশীথ। শনিবারই নিশীথ বলেছিলেন, “এই ধরনের সংস্কৃতি বাংলার বুকে ছিল না। তবে একটাই কথা বলব, দুষ্কৃতীদের দেখে পালানো নয়। চোখে চোখ রেখে লড়াই করাটাই আমার কাজ। আমি মনে করি সাধারণ মানুষকে সাহস দেওয়ার জন্য, বাংলায় যে ভয়ভীতির পরিবেশ আছে, সেটাকে দূর করার জন্য এটাই করতে হবে।” এই বক্তব্যের পাল্টা দেয় তৃণমূলও। তাঁরা অশান্তির জন্য দায়ী করে নিশীথকেই।
